
এবার যশোরে সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক ও মুক্তচিন্তার সংগঠন প্রাচ্যসংঘের প্রতিষ্ঠাতা বেনজীন খানকে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে আইনজীবী লতিফুর রহমান খোকন ও তার ছেলে মেহেদী হাসান বাপ্পীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জজ আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। এরআগে এ বাবা ছেলের বিরুদ্ধে নারী মক্কেলকে অফিসে ডেকে মারপিটের অভিযোগ উঠেছিলো। যা নিয়ে আইনজীবী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ এমনকি দুইজনকে শোকজও করা হয়েছিলো। তার রেশ কাটতে না কাটতে এবার সাংবাদিককে লাঞ্চিতের অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাংবাদিক বেনজীন খান জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক সমাজে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের পক্ষথেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বেনজীন খান জানান ,তিনি জমিজমা সংক্রান্ত একটি মামলার বাদী এবং গত ১৫ বছর ধরে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়ে আসছেন ওই মামলায় । ওই মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী খোকন। গত চারমাস আগে আদালতে টাইম পিটিশন করেন। মঙ্গলবার ছিল মামলার হাজিরার দিন। সেদিন একইভাবে সময় প্রার্থনা করেন আইনজীবী খোকন। একপর্যায় কার্যক্রম শেষে তিনি বলেন, ১৫ বছর ধরে ঝুলছি এক মামলায়। আর কতদিন ভাই। একপর্যায়ে তারা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তার দিকে তেড়ে আসেন। এসময় বাপ্পী তাকে ধাক্কা দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া তারা নানা ধরনের হুমকি দিয়ে বলেন, আপনি সাংবাদিক, যা পারেন লেখেন—আমাদের কিছুই হবে না। এতে তিনি হতভম্ব হয়ে পড়েন। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা যায়, এরআগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মক্কেল শহরের লোন অফিস পাড়ার শাহানারা খাতুনকে শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের নিজ বাসা সংলগ্ন অফিসে ডেকে নিয়ে যান ওই বাবা-ছেলে। পরে তাদেরকে মারপিট করেন। এ ঘটনায় সমিতিতে লিখিত অভিযোগ দেন শাহানারা খাতুন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে বাবা ও ছেলেকে শোকজ করা হয়। যা নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখালেখিও হয়। শেষমেষ বিষয়টির মীমাংশা হয়। আইনজীবীদের সঙ্গে তাদের আচরণ নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সাধারণ আইনজীবীরা। এদিকে, এঘটনার পর এক বিবৃতিতে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ বলেন, আদালত প্রাঙ্গণের মতো একটি সংবেদনশীল ও মর্যাদাপূর্ণ স্থানে একজন সাংবাদিকের সঙ্গে এ অশোভন, অমর্যাদাকর ও সহিংস আচরণ অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও নিন্দনীয়। এটি শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপরও সরাসরি আঘাত। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আইনজীবী লতিফুর রহমান খোকন বলেন, তিনি নতুনভাবে ওই মামলায় নিযুক্ত হয়েছেন এবং বেনজীন খান যে ওই মামলার বিবাদী, তা তার জানা ছিল না। তিনি বলেন, আমরা কাউকে হেনস্তা করিনি, বরং আমরাই হেনস্তার শিকার হয়েছি। এ বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন