
যশোরে যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা মাজহারুল ইসলাম খোকাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মারধর, টাকা ছিনতাই ও জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার সদর আমলী আদালতে মো. সেলিম রেজা নামে এক যুবক এ মামলা করেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন সদর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে মাজহারুল ইসলাম খোকা, বাহাদুরপুর পশ্চিমপাড়ার আব্দুর রহিম ও তার মেয়ে আকলিমা বেগম সীমা, বাহাদুরপুর গ্রামের রোকন এবং পাঁচবাড়িয়া গ্রামের ইনতাজ আলীর ছেলে তাজ উদ্দীন আহমেদ মুক্তি।
মামলার বাদী সদর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের সামসুল হকের ছেলে সেলিম রেজা অভিযোগ করেন, তিনি ঢাকার পুরান পল্টনে অবস্থিত ‘তসলিম এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে চাকরি করেন। এ সুযোগে আসামি আকলিমা বেগম সীমা তার কাছে দুবাই যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে তার বাবা আব্দুর রহিমও মেয়েকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে সেলিম রেজাকে অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়, যেখানে বলা হয় ভিসা সম্পন্ন হলে বিমানবন্দরে ওঠার আগে টাকা পরিশোধ করা হবে।
সেলিম রেজা জানান, প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ১৩ এপ্রিল তিনি আকলিমা বেগম সীমার পাসপোর্ট ইমিগ্রেশনে জমা দেন। যাচাই-বাছাইয়ের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, তার প্রকৃত ঠিকানা বরিশালে এবং তিনি একটি হত্যা মামলার আসামি। এ কারণে পাসপোর্ট জব্দ করা হয় এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা শুরু হয়। পরে সেলিম রেজা পাওনা টাকা চাইলে আকলিমা বেগম তা পরিশোধ না করে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। অভিযোগে বলা হয়, একই বছরের ১৮ মে সন্ধ্যায় টাকা দেওয়ার কথা বলে এনায়েতপুর গ্রামে ডেকে নেওয়া হলে সেখানে উপস্থিত থেকে যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা মাজহারুল ইসলাম খোকাসহ অন্য আসামিরা সেলিম রেজার ওপর হামলা চালানো হয় । এসময় তাকে মারধর করা হয় এবং তার কাছে থাকা ১ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে সেলিম রেজাকে জোর করে পাঁচবাড়িয়া স্কুল মাঠে নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়। রাতে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় সেলিম রেজাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বাদী আরও জানান, দীর্ঘদিন আসামিপক্ষের হুমকির কারণে তিনি মামলা করতে সাহস পাননি। বর্তমানে পরিস্থিতি অনুকূলে আসায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
মন্তব্য করুন