
যশোরের মণিরামপুরের পারখাজুরা বাঁওড়ের মাছ ধরা নিয়ে স্থানীয় দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে হাকিমপুর-পারখাজুরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারন সম্পাদক প্রতিপক্ষের হাতে গুরুতর আহত হওয়ারসহ মাছ লুটের ঘটনা ঘটেছে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে থানায় ১২জনের নামে অভিযোগ করেছেন হাকিমপুর-পারখাজুরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারন সম্পাদক মলয় কুমার মন্ডল।
অভিযোগ জানা গেছে, উপজেলার পারখাজুরা ২৩০ একর আয়তন বিশিষ্ট বাওড়টি গত ২২ সালের ১৩ জানুয়ারি জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি ও ভুমি মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে ২০২২ হতে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ৬ বছরের জন্য ইজারা নিয়ে হাকিমপুর-পারখাজুরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি মাছ চাষ করে আসছিলেন। কিন্তু সমিতির সভাপতি অসিত কুমার বিশ্বাস ও সাধারন সম্পাদক মলয় কুমার মন্ডলের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পরে স্থানীয়ও একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বাওড়টি থাকা মাছ জোরপূর্বক লুট করে তাদের দখলে নেয়। বাওড়টি দখলে নেওয়ার কারনে তাদের কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়। চলতি বছরে সরকারের রাজস্বখাতে ২১ লাখ টাকা জমা দেওয়াসহ আরও ১০ লাখ টাকা পরিশোধের বাধ্যকতা রয়েছে। মঙ্গলবার বাওড়ে ৩৬জন মৎস্যজীবী ৩টি জাল দিয়ে মাছ ধর ছিলেন। এ সময় স্থানীয় মোস্তাফিজুর রহমান ফিজু, আনার গাজী, হাবিবুর রহমান, আক্তারুল ইসলাম, খায়ের আলী, আমিনুল ইসলাম, সাদেক হোসেন, সাদ্দাম খা, আসাদ গাজী, মিজানুর রহমান, আব্দুল মান্নান ও আনারুল দেশীয় অস্ত্র শন্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাওড়ে এসে মৎস্যজীবিদের এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে। তারা ত্রাস সৃষ্টি করে দুই লাখ টাকার ২৬ মন মাছ লুট করে নেয়। এ সময় সমিতির সাধারন সম্পাদক মলয় মন্ডলের ব্যবহ্নত ডিসকভার-১২৫ সিসি মটর সাইকেল ও নগদ অর্থ কেড়ে নেয়াসহ তারা নৌকার বৈঠা, লোহার শাবল, হাতুড়ী, ধারালো দা দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করে। সমিতির সাধারন সম্পাদকের আরও অভিযোগ করেন দৃবৃর্ত্তরা এ সময় তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। ধার্য্যকৃত চাঁদার টাকা ২/৩ দিনের মধ্যে দিতে ব্যর্থ হলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে। তবে হামলাকারি প্রতিপক্ষের দাবী, বাওড়ের সেক্রেটারী এলাকার বিভিন্ন শেয়ারদের কাছ থেকে নেওয়া নগদ অর্থ ফেরত না দিতে সমন্ত নাটক করছে। এমনকি তাদের ফাঁসাতে সবকিছু একটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের পরামর্শে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। মণিরামপুর থানার ওসি রজিউল্লাহ খান বলেন, এ বিষয় একটি অভিযোগ পেয়েছি, যা তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত পূবর্ক আমরা আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করবো।
মন্তব্য করুন