
যশোরের ঝিকরগাছায় সম্পদলোভী এক ভাইয়ের বিরুদ্ধে জমি জালজালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হয়ে পড়েছে। প্রতারণা ও জালজালিয়াতিমূলক সৃষ্ট দলিলের মাধ্যমে দুই একর ২৪ শতক জমির কিয়দংশ বাদে সমুদয় সম্পত্তি আত্মসাৎ প্রচেষ্টা করা।
চাঞ্চল্যকর এই জালজালিয়াতি ও প্রচারণার ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের মাঠশিয়া গ্রামে।
জানা গেছে, মাঠজরিপকালে শরিকদের ফাঁকি দিয়ে তথ্য গোপন ও প্রতারণামূলক হালরেকর্ড করে নেন সূচতুর ও ধর্ত আব্দুল করিম গাজী। ঘটনা জানাজানির পর বিবাদী তাইফুর গাজীগং ওয়ারিশ ও ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত জমির চূড়ান্ত রেকর্ড সংশোধনের দাবীতে বাদী হয়ে আব্দুল করিম গাজীকে বিবাদী করে ল্যান্ডসার্ভে ট্রাইবুনাল (এলএসটি) বিজ্ঞ যশোরের আদালতে মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় দাখিলকৃত তাইফুর গাজীর দলিলটি ভুয়া, তঞ্চকিপূর্ণ ও জাল-জালিয়াতিমুলক সৃষ্ট দলিল বলে দাবি করেন বিবাদী আব্দুল করিম গাজী। অর্থাৎ আব্দুল করিম গাজী যে দলিল বুনিয়াদে নিজ নামে সমুদয় সম্পত্তি মাঠ রেকর্ড ও বিক্রি করেছেন সেই একই দলিল! যার নং ৬৫৭৩ তাং ০৯/০৮/৬৩ইং।
জেলার রেকর্ডরুমের তথ্য,মামলার নথি ও দলিল পর্যালোচনায় দেখা যায়, উল্লেখিত দলিলের দাতা: শ্রী পান্না নাথ গন,বিমল কৃষ্ণ গন,পিং যতীন্দ্রনাথ গন, সাং মাটশিয়া,থানা ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঝিকরগাছা যশোর। গ্রহীতা: এলাহি বক্স গাজী, মোহাম্মদ কাদের গাজী, মোহাম্মদ নাজের গাজী, মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, সর্বপিং মৃত বাদল গাজী, সাং মাটশিয়া,উপজেলা ঝিকরগাছা,জেলা যশোর। কিন্তু, রেকর্ডরুমের রেজিস্টার এর দেয়া তথ্য মতে, ৬৫৭৩ নং দলিলের প্রকৃত দাতা: মেছের আলী মন্ডল,ব:মাসুদ আলী মন্ডল, পিং মান্দার মন্ডল, সাং কুলিয়া,থানা ঝিকরগাছা, যশোর, তাং ১৩/০৬/১৯৬৩ ইং গ্রহীতা : মোঃ সিদ্দিক হোসেন, পিতা মরহুম বদর উদ্দিন মন্ডল, সাং কুলিয়া, থানা: ঝিকরগাছা, জেলা: যশোর। ফলে,
ল্যান্ডসার্ভে ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত মামলার শুনানি চলাকালে চাঞ্চল্যকর এই জাল জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগের সত্যতা উঠে এসেছে। প্রাথমিকভাবে জালজালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
অথচ প্রতারক ও জাল-জালিয়াতকারী আব্দুল করিম গাজী নিজে ও তার মেয়ে শাহানারা বেগম(৪০) নিজেদের অপরাধ ধামাচাপা দিতে ভাই-বোনের নামে একের পর এক হয়রানীমূলক,সাজানো ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে চলেছেন বলে প্রতারিতদের অভিযোগ।গুরুতর ফৌজদারী মামলাসহ সিআর,মামলা নং৪৫১/১৯,১১০৮/২৫,৭৬৬/২৫। আদালতে দায়েরকৃত এসব মামলার মধ্যে ইতিপূর্বে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তা খারিজ হয়ে যায়। বিজ্ঞ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে করিম গাজীর মেয়ে শাহানারা বেগমের দায়েরকৃত ফৌজদারি মামলাটি এখনো চলমান।
অভিযোগে জানা গেছে,সৃষ্ট দলিলের জালিয়াতকারী আব্দুল করিম গাজী ওই সম্পত্তি নিজনামে হালরেকর্ড করত: সংভাই তাইফুর রহমান গাজী, আব্দুল গফুর গাজী,আবু জাফর গাজী, চাচাতো ভাই জিয়াদ গাজী ও বোন রোকেয়া বেগমের কাছে বিক্রি করেন। কিন্তু নানা টালবাহানা ও ছলচাতুরি করে বিক্রি করা জমি তাদের বুঝে দেননি বলে অভিযোগ।
জালজালিয়াতি ও প্রতারণার ঘটনাটি ঘটেছে, উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের মাঠশিয়া গ্রামে।
অভিযোগে প্রকাশ,জালজালিয়াতি ও প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত মৃত এলাহি বক্স গাজীর ছেলে সত্তরোর্দ্ধ আব্দুল করিম গাজী তার সৎমা জসিমন বিবি,বৈমাত্রেয় ভাই তাইফুর গাজী,মো: আব্দুল গফুর,আবু জাফর গাজীসহ গর্ভধারিণী মা বাশিবিবি ও অপরাপর ওয়ারিশ সহোদর ১২জন ভাইবোনের সম্পত্তির প্রাপ্য অংশের জমি ফাঁকি দিয়েছেন।
জালজালিয়াতি মূলক সৃষ্ট দলিল নং ৬৫৭৩ তাং ০৯/০৮/৬৯ তফসিল : ১৬০ মাঠশিয়া মৌজার এসএ ১৩০নং খতিয়ানের এসএ১০৪১,১০৪২,১০৪৩,১০৪৪,১০৪৫,১০৪৬,১০৪৭দাগের মোট ৫৬দশমিক ৫০শতক জমি।
জানাযায়, তফশিল ভুক্ত সম্পত্তির অংশবিশেষ করিম গাজীর কাছ থেকে দলিলমূলে খরিদ করে গ্রহীতারা নিজ নামে নামজারি বা মিউটেশন কেস নং ২৪৮৯ (১×১)১৪-১৫ তাং ১৯/০৪/১৫'র ভূমি উন্নয়ন কর-খাজনা পরিশোধ করেছেন। নিজ নামে হালরেকর্ড ও জমা খারিজ করে নিয়েছেন অনেকে!
প্রশ্ন উঠেছে, বাঁকড়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কর্তৃক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর তফশিলভুক্ত ওই সম্পত্তির এসএ ১৩০নং খতিয়ানের ওপর মতামত ও নামজারির প্রস্তাব করলেন কিভাবে ?
মন্তব্য করুন