
যশোরের চিহ্নিত প্রতারক, সুদেকারবারি ও মামলাবাজ রফিকুল ইসলাম জনিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রফিকুল ইসলাম জনি যশোর সদর উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামের মো. আবু সাঈদ হাসানের ছেলে। তার সহযোগী জাহানারা বেগম পিয়ালী যশোর সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এখনো লাপাত্তা। অভিযোগ রয়েছে, পিয়ালী বকচর কবরস্থান রোড এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন নারীদের প্রতারণার জালে জড়িয়ে সর্বস্বান্ত করেছেন। শুধু তাই নয়, পিয়ালী জনিকে তার স্বামী হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং ওই বাড়িতে জনির নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এর আগে জনি সদর উপজেলার শানতলা এবং পরে বকচর জোড়া মন্দির এলাকায় চাকরি ও ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৯০ জন নারীর কাছ থেকে ১০ লাখের বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দেন। এর মধ্যে এক নারী শ্রমিকের সরলতার সুযোগ নিয়ে ৫ লাখ টাকা এবং একটি ব্যাংকের স্বাক্ষরযুক্ত ব্ল্যাঙ্ক চেক হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জনির বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় মঙ্গলবার জনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, জনির মালিকানাধীন ‘গ্রুপ আর এল কোং’ নামের একটি চানাচুর কারখানা রয়েছে। ভুক্তভোগী মামলার বাদী মুড়লী এলাকার রেশমা সুলতানা (৩৫) ওই কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। কাজের সূত্রে জনি তার সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর ব্যবসার কথা বলে এক মাসের জন্য রেশমার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ধার নেন জনি। প্রমাণ হিসেবে তিনি নিজের প্রতিষ্ঠানের প্যাডে একটি অঙ্গীকারনামাও লিখে দেন। পরবর্তীতে রেশমাকে স্বাবলম্বী করার কথা বলে স্বল্প সুদে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখান। ঋণের শর্ত হিসেবে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর রেশমার কাছ থেকে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড, যশোর শাখার একটি স্বাক্ষরযুক্ত ব্ল্যাঙ্ক চেক নেন তিনি।
পরে টাকা পরিশোধের সময় হলে রেশমা তার পাওনা টাকা ও চেক ফেরত চান। কিন্তু জনি তালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি উল্টো হুমকি দিয়ে বলেন, টাকা ফেরত চাইলে ওই ব্ল্যাঙ্ক চেক ব্যবহার করে রেশমাকে আইনি জটিলতায় ফেলে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করবেন। কোনো উপায় না দেখে রেশমা সুলতানা গত বছরের ১৩ নভেম্বর আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকে জনি পলাতক ছিলেন। মঙ্গলবার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিকে অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, জনির কাছে অসংখ্য নারী টাকা পান। স্বল্প সুদে এনজিও ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে ছয় হতদরিদ্র নারীর কাছ থেকে ফাঁকা চেক নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনার মামলা করে বিভিন্নভাবে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই প্রতারণার সঙ্গে তার অন্যতম সহযোগী হিসেবে জাহানারা বেগম পিয়ালীর নামও উঠে এসেছে।
মন্তব্য করুন