
জীবনের নির্মম বাস্তবতা কখনও কখনও একই দিনে শোক আর আনন্দের অশ্রু একসঙ্গে উপহার দেয়। ঠিক এমনই এক দিন পার করলেন সিটি কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি ইয়াসিন আরাফাত।
মঙ্গলবার দুপুরে তার স্ত্রীর অপারেশন হওয়ার কথা ছিল। সেই প্রস্তুতি নিয়েই মাকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে সাতক্ষীরার একটি হাসপাতালে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু পথেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। একটি ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তার মা।
মায়ের নিথর দেহ সামনে রেখে যখন তিনি শোকে স্তব্ধ, ঠিক সেই সময়—মাত্র ১০ মিনিটের মাথায়—খবর আসে, তিনি কন্যা সন্তানের বাবা হয়েছেন। একদিকে মায়ের চিরবিদায়, অন্যদিকে নবজাতক কন্যার আগমন—একই মুহূর্তে জীবনের দুই চরম অনুভূতির মুখোমুখি হন আরাফাত।
এদিকে, রাত সাড়ে ১০টায় নিজ এলাকা তালবাড়িয়া গ্রামের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মায়ের দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজায় যশোর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাজেদুর রহমান সাগর, জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওমর ফারুক তারেক, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাপ্পী, সিটি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মিজানুর রহমান চৌধুরি, সভাপতি সোহানুর রহমান সোহানসহ স্থানীয়রা অংশ নেন।
সবার মুখে তখন একটা কথা বলেতে দেখা যায়, আল্লাহ আরাফাতের একজন মাকে নিয়ে গেছেন, আরেকজন মাকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। সকলেই আরাফাতের দুই মায়ের জন্য মনখুলে দোয়া প্রার্থনা করেন।
মন্তব্য করুন