
যশোরে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা, প্রতারণা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোছা. মাছুদা পারভীন মিমি নামে এক এতিম নারী। তার দাবি, বাবার মৃত্যুর পর চাচা ও ফুফুরা তার সম্পত্তি আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছেন। এমনকি সম্পত্তির কিছু অংশ তিনি বিক্রি করলেও ক্রেতাকে জমি বুঝে দিতে পারছেন না। ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে তাদের কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। রোববার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মিমি ও তার জমির ক্রেতারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্যে মিমি জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে তার পিতা মাসুদুল হক মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তার একমাত্র কন্যা। পিতার রেখে যাওয়া যশোর সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা মৌজায় মোট ৩ একর ৮৪ শতক পৈতৃক জমির আইনগত উত্তরাধিকারী হিসেবে তিনি প্রাপ্য দাবিদার। তিনি বলেন, মুসলিম আইন অনুযায়ী তার প্রাপ্য অংশ ৬৬ শতক জমি হলেও বড় চাচা মাহমুদুল হক ও ছোট চাচা মঞ্জুরুল হক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং তাকে এতিম ও অসহায় মনে করে ভুল বুঝিয়ে মাত্র ২৯ শতক জমি বুঝিয়ে দেন। পরবর্তীতে প্রাপ্য জমির দাবি করলে তাকে প্রকাশ্যে অপমান করা হয় এবং একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি তার প্রাপ্য জমি পান্না শেখ ও সানি আহমেদের কাছে বিক্রি করেন। কিন্তু ক্রেতারা জমিতে থাকা গাছপালা কাটতে গেলে চাচারা পুলিশ ডেকে এনে কাজ বন্ধ করে দেন। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি নিয়ে থানায় মীমাংসার দিন ধার্য করলেও আসেননি তার চাচারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে মিমির জমির ক্রেতা পান্না শেখ বলেন, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তারা বায়না দেওয়া জমিতে কাজ করছিলেন। এ সময় সেলিম রেজা পান্নুর ম্যানেজার সন্ত্রাসী রাসেলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী সেখানে গিয়ে বাধা দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। এরপর পুলিশ উভয় পক্ষকে ২৮ ফেব্রুয়ারি থানায় আসতে বললেও প্রতিপক্ষ সেখানে উপস্থিত হয়নি। এতে করে তারা ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেন।
মন্তব্য করুন