
যশোর জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগের ১২২ ও ১২৩ নম্বর কক্ষ এখন সাবেক (মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল) ম্যাটস্ শিক্ষার্থীদের দখলে। দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ডাক্তার পরিচয়ে সেখানে রোগী দেখছেন তারা। শুধু রোগী দেখাই নয়, তারা ব্যবস্থাপত্র লিখছেন, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে লেনদেন করছেন এবং রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠাচ্ছেন। এমন গুরুতর অভিযোগ উঠলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এ নিয়ে কোনো তাপ-উত্তাপ নেই।
বুধবার সকালে অর্থোপেডিক বিভাগের ১২৩ নম্বর কক্ষে নাজমুস সাকিব (৩০) নামে এক যুবককে ডাক্তার সেজে রোগী দেখতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে তিনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন, রোগ নির্ণয় করেন এবং প্রেসক্রিপশন লিখে দেন। তার আচরণে সন্দেহ হলে স্থানীয় কয়েকজন জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্বীকার করেন, তিনি একজন সাবেক ম্যাটস্ শিক্ষার্থী। এ ঘটনা নতুন নয়। গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর একই বিভাগে রফিকুল নামে আরেক ম্যাটস শিক্ষার্থী রোগী দেখার সময় গণমাধ্যমকর্মী ও জনতার হাতে ধরা পড়েন। ওই ঘটনার পর কিছুদিন সতর্কতা দেখা গেলেও আবারও একই চিত্র ফিরে এসেছে বলে অভিযোগ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর বিভিন্ন বেসরকারি ম্যাটস্ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ইন্টার্নশিপের জন্য এখানে আসেন। তারা সাধারণত ছয় মাস থেকে এক বছর চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেখেন। নিয়ম অনুযায়ী তারা চিকিৎসকদের সহায়তা করতে পারেন, কিন্তু কোনোভাবেই রোগী দেখা, ব্যবস্থাপত্র লেখা বা ওষুধ নির্ধারণের ক্ষমতা তাদের নেই। ইন্টার্নশিপ শেষ হলে শিক্ষার্থীদের হাসপাতাল ত্যাগ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, অনেকেই সেই নিয়ম মানছেন না। তারা বিভিন্নভাবে বিভাগে অবস্থান বজায় রাখছেন এবং চিকিৎসকের অনুপস্থিতির সুযোগে রোগী দেখা শুরু করছেন।
দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নাজমুস সাকিবের ইন্টার্নশিপ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। তবুও তিনি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নিয়মিত চেম্বারে বসছেন এবং নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে উপস্থাপন করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অভিযুক্ত নাজমুস সাকিব নিজ হাতে প্রেসক্রিপশন লিখে দিচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী পাঠাতে আগ্রহী। এতে কমিশন বাণিজ্যের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ওষুধ উত্তোলনের ঘটনাও ঘটছে বলে অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে। এসব ঘটনায় হাসপাতালের ভেতরে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় এমন কথাও শোনা যাচ্ছে।
অভিযুক্ত নাজমুস সাকিব দাবি করেন, হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার বজলুর রহমান টুলুর অনুমতি নিয়েই তিনি অর্থোপেডিক বহির্বিভাগে কাজ করছেন। তবে এ বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কক্ষে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হোসাইন সাফায়েত বলেন, বিষয়টি নিয়ে তার কাছে মৌখিক অভিযোগ এসেছে। কোর্স শেষ হওয়ার পর কোনো ম্যাটস্ শিক্ষার্থীর হাসপাতালে থাকার সুযোগ নেই। বহির্বিভাগের ১২২ ও ১২৩ নম্বর কক্ষের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন