
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগের বিরুদ্ধে যশোরের বাঘারপাড়ায় ঝাড়ু মিছিল হয়েছে। সোমবার দুপুরে পৌর শহরে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিএস আইয়ুবের অনুসারীরা একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি পৌর শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ বিএনপি নেতা টি এস আইয়ুবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। কাজল টাকা-পয়সা খেয়ে দুনীর্তি করে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় টিএস আইয়ুবের মনোনয়ন বাতিল করেছে। সেই কারণে বাঘারপাড়াবাসী ফুঁসে উঠেছে। মনোনয়ন সঠিক না হওয়ার কারণে বিএনপি আসনটি হারিয়েছে। উপজেলায় দলীয় ঐক্য নষ্ট ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাজল ও সোহাগের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে কঠোর আন্দোলন করার হুশিয়ারিও দেন তারা।
নেতাকর্মীরা জানান, বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপি দুটি গ্রুপে বিভক্ত। একটির পক্ষের নেতৃত্ব দেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব ও অন্যটি পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই মনা। সম্প্রতি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে দলীয় মনোনয়ন পান টিএস আইয়ুব। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ঋণখেলাপির দায়ে টিএস আইয়ুবের মনোনয়ন বাতিল করলে; দল মনোনয়ন পরিবর্তন করে দেন অভয়নগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মতিয়ার রহমান ফারাজীকে। নির্বাচনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে মতিয়ার ফারাজী জামায়াতের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। আইয়ুব পক্ষের ভাষ্য- টিএস আইয়ুবকে ঋণখেলাপিতে মনোনয়ন বাতিল করতে নেপথ্যের কারিগর ছিলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও অ্যাডভোকেট নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ। ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে টিএস আইয়ুবের অনুসারীরা ঝাড়ু মিছিল করে দলীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, শীর্ষনেতাদের দলীয় বিভেদ গ্রুপিংয়ে নির্বাচনে ভরাডুবির পরে প্রকাশ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিলে চাঙ্গা হলো উপজেলা বিএনপির গ্রুপিং।
এই বিষয়ে নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ বলেন, ‘আমাদের নিয়ে অবমাননাকর মিছিল করিয়েছে টি এস আইয়ুব। টিএস আইয়ুব ঢাকা ব্যাংকের কাছে ঋণ খেলাপির তালিকায় থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল হয়। সেই মামলায় ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ঢাকা ব্যাংকের হয়ে লড়েছেন। আর আমার অপরাধ আমি কাজলের সহকারী আইনজীবী ও আসনটির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। টিএস আইয়ুবের ইন্ধনে দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরণের কর্মকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি ও জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’ এই বিষয়ে টিএস আইয়ুবের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।’
মন্তব্য করুন