
যশোরে চাপাকলার ফানা বিক্রি হচ্ছে ১০০টাকায়। একটি ফানায় দেড় ডজনের মতো কলা রয়েছে, যা এমন দামে বিক্রি হচ্ছে। আর চাপাকলার এমন দামকে ক্রেতারা উপহাসের ছলে বলছেন চাপাকলা’র সেঞ্চুরি। কলার পাশাপাশি অন্যান্য ফলও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে।
রমজান মাসে সকল ফলের তুলনায় চাহিদার শীর্ষে থাকে কলা। যা ইফতার কিংবা সেহরি দুটিতেই সমান গুরুত্ব বহন করে রোজাদারদের কাছে। তবে রোজার মাস শুরু হলেই বাড়তে থাকে জরুরি এ ফলটির দাম। শুক্রবার শহরের মণিহার, চৌরাস্তা, বড়বাজার, দড়াটানাসহ বিভিন্ন স্থানে চাপাকলা বিক্রি হয় প্রতিফানা ১০০ টাকা। রোজার শুরুতে যে চাপাকলা বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা ডজন দামে। সবরি কলা ডজন প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। সাগর কলা ৮০টাকা। পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে ১০০টাকা কেজিতে। যে পেয়ারা রোজার শুরতেও বিক্রি হয় ৫০থেকে ৬০টাকা কেজিতে। অন্যান্য ফলও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। বেড়েছে আনারসের দামও। আনারস বিক্রি হচ্ছে ৫০থেকে ৮০টাকা কেজিতে। টক বরই ৮০টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে আপেল বড়ই। এসকল বড়ই রোজার আগে বিক্রি হয় ৫০থেকে ৬০টাকায়। নারকেল বড়ই ১০০টাকা কেজি। সস্তার ফল ছবেদা বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে। যা রোজার আগে বিক্রি হয় ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে। পাকা পেঁপে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। তরমুজের কেজি ৮০থেকে ১০০ টাকা। আর তরমুজ পিস হিসেবে কিনলে দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। বেল ৪০ থেকে ৮০, ডাব ৭০ থেকে ১০০ টাকা। এসকল ফলের প্রতিটিতে দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৪০ টাকা করে।
অন্যান্য ফলের মধ্য কমলা বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজিতে। রোজার আগে যে কমলা বিক্রি হয় ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায়। মাল্টা ৩৫০ টাকা কেজি। বেদানা ৫০০, আপেল ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা। আঙ্গুর ৩৫০ থেকে ৪০০, নাসপাতি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি। কেজিতে এসকল ফলের দাম বেড়েছে ৩০থেকে ৫০টাকা করে। ফলের এমন বাড়তি দরদামে দেখা দিয়েছে ক্রেতা অসন্তোষ।
মুড়লী এলাকার বেলাল হোসেন বলেন, চাপাকলা সেঞ্চুরি করে ফেলেছে, সত্যিই অবিশ্বাস্য দাম। সারাবছরই ফল কিনি, রমজানে আরও বেশি দরকার হয়। কিন্তু এসময় বাড়তি চাহিদার কারণেই দাম বাড়ানো হয়। ঝুমঝুমপুর এলাকার নাজমা বেগম বলেন, প্রতিদিনের বাজার খরচেই দম বেরিয়ে যায়, তাই ফলের কাছে কম আসি। তবে রমজান মাসে ফল না কিনে উপায় থাকে না। লোন অফিস পাড়ার সাবিব আলম বলেন, ফল ছাড়া ইফতার করা হয় না। প্রতিটি ফলের দাম বেড়েছে, তবু কিনতে হচ্ছে।
ফল বিক্রেতা আরিফুল ইসলাম বলেন, কলা তুলনামূলক কম আছে বাজারে। তাই দাম বেশি। আরেক বিক্রেতা মাসুম রানা বলেন, বেশিরভাগ ক্রেতাই ফলের দাম শুনে চলে যায়, সবাই কেনে না। আমরাতো নিরুপায়, যে দামে কিনতে হয় সে অনুযায়ীই বিক্রি করতে হয়।
মন্তব্য করুন