
আজ ৮ ফেব্রুয়ারি যশোরের রিকশা-ভ্যান শ্রমিক শহীদ দিবস। ১৯৯০ সালের এই দিনে পুলিশের গুলিতে শাহাদত বরণ করেন তিন শ্রমিক। সব মিলিয়ে ওই ঘটনায় শহীদ হন মোট পাঁচ শ্রমিক।
শ্রমিকদের রক্তে লেখা এ দিনটি প্রতি বছরের মতো এবারো বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে।
৮ ফেব্রুয়ারি উদযাপন পরিষদের সংশ্লিষ্টরা জানান, ’৯০ এর ৭ ফেব্রুয়ারি ডাকাতির অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায় রিকশা শ্রমিক ওয়াজেদকে। ওই রাতেই পুলিশি নির্যাতনে কোতোয়ালি থানা হেফাজতে মারা যান তিনি। সকাল হতে না হতেই এ সংবাদ পৌঁছে যায় শ্রমিকদের মধ্যে। সংঘবদ্ধ হয়ে তারা ঘেরাও করতে যান কোতোয়ালি থানা। এসময় পুলিশ বেপরোয়া হয়ে নির্বিচারে গুলি ছুঁড়তে থাকে। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যশোর শহর।
রিকশা-ভ্যান শ্রমিকদের সঙ্গে যোগ দেন পরিবহন, হোটেল, প্রেসসহ বিভিন্ন শ্রেণির শ্রমিকরা। সকাল থেকে দিনব্যাপী চলতে থাকে শ্রমিকদের বিক্ষোভ। শহরের দড়াটানায় বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ গুলি চালায়। গুলিতে ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করেন রিকশা শ্রমিক হারুন। এছাড়া, গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান হোটেল শ্রমিক টেনিয়া ও প্রেস শ্রমিক দেবাশীষ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দু’দিন পরে মারা যান গুলিবিদ্ধ মতিউর।
এ ঘটনায় আহত হন অনেকেই। আহতদের মধ্যে কেউ কেউ বরণ করেছেন চিরপঙ্গুত্ব। সেদিনের শহীদদের স্মরণে শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানা ভৈরব চত্বরে নির্মিত হয়েছে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ। সেখানে লিপিবদ্ধ আছে পাঁচ শহীদ ওয়াজেদ, মতিউর, হারুন, টেনিয়া ও দেবাশীষের নাম।
এ দিনটি স্মরণে যশোরের রিকশা-ভ্যান শ্রমিকরা আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও দরিদ্র ভোজসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
মন্তব্য করুন