
সমৃদ্ধ মুখার্জী দিনের লেখাপড়া শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। পৌরভবনের সামনে যেতেই তার চোখ আটকে গেল একটি বিলবোর্ডে। তাতে লেখা আছে আগামীতে কেমন কেশবপুর দেখতে চাই? চারপাশে তাকাতাকি করে বিলবোর্ডের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। পিঠে ঝুলানো বইখাতার ব্যাগ থেকে বের করলেন একটি কলম। বিলবোর্ডে আটকানো কাগজে সংক্ষেপে লিখলেন কেশবপুরের উন্নয়নে তার ভাবনাগুলো।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর -৬ আসনের প্রার্থী কেশবপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মোক্তার আলীর পক্ষ থেকে ১ ফেব্রুয়ারি সরকারী ডিগ্রী কলেজ ও পৌর ভবনের সামনে দুইটি বিলবোর্ড দেয়া হয়েছে। আগামীতে কেমন কেশবপুর দেখতে চাই? এ লেখার নীচে প্রতিদিন শত শত মানুষ তাদের মতামত তুলে ধরেছেন ওই বিলবোর্ডে।
জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীর প্রচার বিভাগের স্মার্টটিমের উদ্যোগে ব্যতিক্রম এ আয়োজনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন বিশেষ করে তরুণ শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ কেশবপুর নিয়ে তাদের প্রত্যাশা ও স্বপ্ন তুলে ধরছেন ওই বিলবোর্ডে। বিলবোর্ডে আটকানো প্রতিদিনের প্রস্তাবনা ও সুপারিশ পর্যালোচনা এবং ওই কাগজ সংরক্ষন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিলবোর্ডে লিখিত প্রস্তাবনার মধ্যে সব চেয়ে বেশী মাদক মুক্ত, চাঁদাবাজ মুক্ত ও দুর্নীতি মুক্ত একটি সুন্দর কেশবপুর গড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতার নিরসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়ছে।
বিলবোর্ডে মতামত প্রকাশকালে মজিদপুর গ্রামের আক্তার হোসেন জানান, মাদকের অন্ধকারে হারিয়ে গেছেন কেশবপুরের শত শত তরুণ ও যুবক। মাদক ব্যক্তি জীবন, পারিবারিক জীবনসহ গোটা সমাজকে বিপর্যস্ত করে তুলেছেন। তাই যে প্রার্থী বিজয়ী হয়ে মাদক ও চাঁদাবাজীর বিরুদ্ধে নীতিগত ভাবে অবস্থান নিবেন বলে মনে করবেন তাকেই ভোট দিবেন। যশোর -৬ কেশবপুর আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রধান এজেন্ট ছাত্র শিবির খুলনা মহানগরীর সাবেক সভাপতি ও সাবেক কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদক মো: সাইদুর রহমান সাঈদ বলেন, কেশবপুরকে নিয়ে ভোটারদের আগামীর উন্নয়ন ভাবনা ও প্রত্যাশা কি তা জানতে বিলবোর্ডটি স্থাপন করা হয়েছে। দলীয় ইস্তেহারের পাশাপাশি স্থানীয় সমস্যা নিয়ে ওইসব নাগরিক ভাবনা ও চাওয়াপাওয়া পর্যালোচনা করে বাস্তবভিত্তিক ও গঠনমূলক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হবে।
জামায়াতের পেশাজীবী সংগঠনের কেশবপুরের সভাপতি এ্যাডভোকেট ওজিয়ার রহমান বলেন, এ ধরণের আয়োজন ভোটারদের রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কেশবপুরের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন রূপরেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগামীর কেশবপুর গঠনে মানুষ তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও ভাবনা তুলে ধরেছেন।
অধ্যাপক মোক্তার স্যার বিজয়ের পর সকল দল, মত ও ধর্মের মানুষদের নিয়ে একটি সুন্দর কেশবপুর গড়ার লক্ষ্যে কাজ করবেন। সর্ব বয়সের মানুষ বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত কেশবপুর গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
মন্তব্য করুন