
যশোরের ঝিকরগাছায় শামীম পারভেজ হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তসহ দু’জনকে আটক করেছে ঝিকরগাছা থানা পুলিশ। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে শামীমের ইজিবাইক ও ব্যাটারি। আটককৃতরা হলেন, উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের ইসমাইলের ছেলে ইব্রাহিম এবং তার দোকানের কর্মচারী, যশোর সদর উপজেলার চান্দুটিয়া গ্রামের জুয়েলের ছেলে মামুন। মামুন তার নানাবাড়ি ঝিকরগাছার শ্রীরামপুর গ্রামে বসবাস করতেন এবং ইব্রাহিমের অটোরিকশা ভ্যানের গ্যারেজে চাকরি করতেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেওয়ান মোহাম্মদ শাহজালাল আলম। শুক্রবার রাতে নিজ দোকান থেকে প্রথমে ইব্রাহিমকে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আটক করা হয় মামুনকে। শনিবার সকালে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সুলতানা ইব্রাহিমের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে আদালত দুইজনকেই কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, আটক ইব্রাহিম স্বীকার করেছেন যে, বৃহস্পতিবার রাতে নিহত শামীম তার দোকানেই বসে ছিলেন। পরে তারা দুজন ইয়াবা সেবন করেন। এরপর মামুনকে সঙ্গে নিয়ে আঙ্গারপাড়া গ্রামের একটি ক্ষেতের পাশে যান। সেখানে ইব্রাহিম ও মামুন সাইকেলের ব্রেকের তার দিয়ে শ্বাসরোধ করে শামীমকে হত্যা করে পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেওয়ান মোহাম্মদ শাহজালাল আলম বলেন, মূলত অটোভ্যানের লোভেই শ্বাসরোধ করে শামীমকে হত্যা করা হয়। প্রথমে ইব্রাহিমকে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার বাড়ি থেকেই শামীমের অটোভ্যান ও ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কিশোর মামুনকেও আটক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বিকেলে শামীম ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে শুক্রবার উপজেলার আঙ্গারপাড়া গ্রামের একটি ক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। পুলিশ ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যার রহস্য উদঘাটন করে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
মন্তব্য করুন