
স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযানে বন্ধ ঘোষিত খাজুরা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বাইরে তালা ঝুললেও ভেতরে অপারেশনসহ সব ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। বন্ধ ঘোষণার পরও সেখানে সিজারিয়ান অপারেশনসহ চিকিৎসাসেবা চালু থাকায় এলাকাজুড়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র জানায়, সর্বশেষ গত ২৩ ডিসেম্বর যশোরের সিভিল সার্জন ডাক্তার মাসুদ রানা, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ইউসুফ আলীর নেতৃত্বে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি দল খাজুরা এলাকার তিনটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় খাজুরা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বৈধ লাইসেন্স দেখাতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
তবে বন্ধ ঘোষণার পরও ক্লিনিকটিতে চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত ২৬ জানুয়ারি ওই ক্লিনিকে অন্তত দুটি সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। অথচ সেখানে রোগী ভর্তি করার কোনো অনুমোদনই নেই। এর আগেও চলতি বছরের ১ জানুয়ারি রোগী ভর্তি করে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানে।
জানা গেছে, একটি সাধারণ বসতবাড়িতে গড়ে ওঠা খাজুরা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার কোনোভাবেই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করে না। তবুও অজ্ঞাত প্রভাব ও ক্ষমতার জোরে লাইসেন্স ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়ে আসছিল।
উল্লেখযোগ্য যে, প্রতিষ্ঠানটির আগের নাম ছিল ‘নিউ মাতৃসেবা হাসপাতাল’। সেখানে রোগী মৃত্যুর ঘটনার পর স্বাস্থ্য বিভাগ সেটি বন্ধ করে দেয়। পরে নাম পরিবর্তন করে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করা হয়। এ বিষয়ে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইউসুফ আলী বলেন, ‘২৬ তারিখ ওই প্রতিষ্ঠানে দুটি সিজারিয়ান হয়েছে-এ তথ্য সত্য। বিষয়টি জানতে পেরে আমি নিজে গিয়ে পরিদর্শন করে সত্যতা পেয়েছি। কোনোভাবেই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হুমায়ন কবিরকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বিষয়টি সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আবারও প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে খাজুরা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক হুমায়ন কবিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
মন্তব্য করুন