
৫ জানুয়ারি গ্রামের কাগজে ‘ভুয়া পোর্টালে সরকারি রেজাল্টের নাটক, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে ভুয়া ডাক্তার তৈরির কারখানা’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের পর ব্যবসার কৌশল পরিবর্তন করেছে প্যারামেডিকেল অ্যান্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন (পিটিএফ), যশোর শাখা।
সংবাদ প্রকাশের পর জেলার একটি স্বল্প পরিচিত পত্রিকায় প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি আবারও শিক্ষার্থী সংগ্রহ শুরু করেছে। অভিযোগ রয়েছে, চলতি বছরে নতুন করে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে একটি চক্র।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই ভুঁইফোঁড় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় রয়েছেন বিএম শামীম নামের এক ব্যক্তি। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এ প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মীরা মাঠে সক্রিয় রয়েছে। তারা নিজেদের ‘এস. হেলথ কার্ড অ্যান্ড কনসালটেন্সি ফার্ম লিমিটেড’ এর মাঠকর্মী পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভিজিটিং কার্ড বিতরণ করছে। প্রচারণায় বলা হচ্ছে, পিটিএফ যশোর শাখা তাদের একটি সহযোগী সংস্থা।
প্রচার করা হচ্ছে, এখানে ভর্তি হলে অল্প টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীসহ সব বয়সের মানুষ ডাক্তার ও নার্স হতে পারবে। পাশাপাশি একটি হেলথ কার্ড করলে নাকি স্বাস্থ্যসেবায় মিলবে নানা সুযোগ-সুবিধা। তবে এসব দাবির কোনোটিরই বাস্তব সত্যতা নেই। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি সরকারি কোনো নিবন্ধিত সংস্থা নয়। একই সঙ্গে আইন অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির নামের আগে ‘লিমিটেড’ ব্যবহার করতে হলে নির্দিষ্ট পরিমাণ বৈধ ব্যবসায়িক কার্যক্রম থাকতে হয়, যা এ ক্ষেত্রে অনুপস্থিত।
অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্যসেবার নামে নানা ভুয়া সংগঠন তৈরি করে পিটিএফ যশোর শাখায় শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম চালাচ্ছেন বিএম শামীম। নতুন বছর উপলক্ষে এখান থেকে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ খুঁজছেন তিনি। শিক্ষার্থী ভর্তি বাবদ নেওয়া হচ্ছে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। আবার ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে দেড় হাজার বেতন আদায় করা হচ্ছে। এখানেই শেষ নয় অভিযোগ রয়েছে, এখানে টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট বিক্রি করা হয়। যে যত বেশি টাকা দেয়, তার ফলাফল তত ভালো দেখানো হয়। কারণ, এ প্রতিষ্ঠানের রেজাল্ট প্রকাশ করা হয় তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে। প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, পিটিএফ যশোর শাখার সাইনবোর্ডে বড় বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে, এখানে এ্যালোপ্যাথিক, হোমিওপ্যাথিক, ইউনানী, নার্সিং, ডেন্টাল, প্যাথলজি, ফিজিওথেরাপি, গবাদি পশু চিকিৎসা ও ভূমি জরিপসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।
পাশাপাশি দাবি করা হচ্ছে, এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। সাইনবোর্ডে সরকারি সংস্থার নামে ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী কোনো ফাউন্ডেশন বা বেসরকারি সংগঠন ইচ্ছামতো নার্সিং, ডেন্টাল, প্যাথলজি বা গ্রাম ডাক্তারি কোর্স পরিচালনা করতে পারে না। এ ব্যাপারে বক্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বিএম শামীম সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানান, ‘প্যারামেডিকেল অ্যান্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন (পিটিএফ) এর প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরেছি। তাদের ব্যাপারে আরও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হবে।’
মন্তব্য করুন