
যশোরে গত এক বছরে আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে কুষ্ঠ রোগী। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে কুষ্ঠমুক্ত করার লক্ষ্য থাকলেও কমছে না নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা। ২০২৬ সালের জানুয়ারির ২৫ তারিখ পর্যন্ত যশোর জেলায় চিকিৎসাধীন কুষ্ঠ রোগীর সংখ্যা ৬৪ জন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এ সংখ্যা ছিল ৪৭ জন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এ সংখ্যা ছিল ৩৫।
এর আগে ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে ছিল ১৬ জন। শুধুমাত্র চলতি বছরের ২৫ দিনে নতুন শনাক্ত হয়েছেন তিনজন। বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রোববার এ তথ্য জানানো হয়। দিনটি উপলক্ষে বাঁচতে শেখার উদ্যোগে এইপি প্রকল্পের আওতায় যশোর সিভিল সার্জনের কার্যালয়সহ ৮ উপজেলায় বিশেষ অনুষ্ঠান হয়েছে।
‘কুষ্ঠরোগ নিরাময় যোগ্য, সামাজিক কুসংস্কার প্রকৃত বাধা’ এ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস উপলক্ষে রোববার সকালে সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে এ দিবস পালন উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা, র্যালি, হুইল চেয়ার ও কম্বল বিতরণ হয়। সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আক্রান্ত ও সুস্থ হওয়া কুষ্ঠ রোগী, যশোরে কুষ্ঠ নিরাময়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা বাঁচতে শেখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে এ অনুষ্ঠান হয়।
সিভিল সার্জন কার্যালয় চত্বরে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় রোগীদের দিকনির্দেশনা দেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাক্তার নাজমুস সাদিক। পরে তিনি কুষ্ঠ রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নবনিতা বণিক, এইপি প্রজেক্টের ফ্যাসিলেটর অপূর্ব মন্ডল, শরিফুল ইমলাম, শাহাজাহান আলমসহ অন্যরা।
এইপি প্রজেক্টের প্রোগ্রাম ফোকাল হিমেল সঞ্জীব কিসকু জানান, কুষ্ঠরোগ সম্পর্কে একটি সাধারণ ভুল ধারণা হল এটি অত্যন্ত সংক্রামক। এই রোগটি সম্পূর্ণরূপে নিরাময়যোগ্য হলেও অজ্ঞতার কারণে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রায়শই সামাজিক বর্জনের সম্মুখীন হন। যার ফলে মানসিকভাবেও তিনি অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন। অনেকে রোগটি লুকান এবং প্রাথমিকভাবে চিকিৎসার আওতায় আসেন না। ফলে চিকিৎসার বদলে অসুখ আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যায়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশকে কুষ্ঠমুক্ত করতে হলে এ রোগী প্রথম পর্যায়ে শনাক্ত ও সুচিকিৎসার আওতায় আনতে হবে। কিন্তু রোগ নির্মূলে সরকারি বেসরকারি খাতে অর্থায়নের সঙ্গে কমেছে বিভিন্ন কর্মসূচি। এতে রোগটির ব্যাপারে সচেতনতা তৈরি ও রোগ নির্মূল করার পথ প্রশস্ত হচ্ছে না।
কুষ্ঠ রোগের কারণে প্রতিবন্ধীতার শিকার এ মানুষদের জন্য বাঁচতে শেখার এইপি প্রকল্পের মাধ্যমে পরিচালিত হয় 'আশার আলো কুষ্ঠ রোগী ও প্রতিবন্ধী উন্নয়ন প্রচেষ্টা' ও 'সোনালী কুষ্ঠ রোগী ও প্রতিবন্ধী উন্নয়ন প্রচেষ্টা'। কুষ্ঠ রোগী এবং এ রোগে সেরে ওঠা ও প্রতিবন্ধিতার শিকার সদস্য নিয়ে লেপরোসি মিশনের সহায়তায় বাঁচতে শেখার এইপি প্রজেক্টের আওতায় পরিচালিত এ প্রচেষ্টার কর্মীরা চিকিৎসা থেকে শুরু করে সমাজের মূল স্রোতধারায় ফেরার সকল সহযোগিতা পাচ্ছেন।
এইপি প্রজেক্টের ফ্যাসিলেটর অপূর্ব মন্ডল জানান, বাঁচতে শেখা এইপি প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৫ সাল থেকে কুষ্ঠরোগ নিরাময়ে কাজ করছে। এ সময়ের মধ্যে মোট রেজিস্ট্রেশন কৃত রোগী ৩৪৪ জন । রোববার দিবসটি উপলক্ষে ৩০ জন রোগীর মধ্যে ক¤¦ল এবং ৩ জন পক্ষাঘাতগ্রস্থ রোগীকে হুইল চেয়ার বিতরণ করা হয়।
প্রসঙ্গত, প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের শেষ রোববার বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস পালিত হয়। বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় তিন হাজার মানুষ নতুন করে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ কুষ্ঠ রোগ নির্মূলের পথে হাঁটলেও কিছু এলাকায় বেশি ছড়াচ্ছে। ২০২৩ সালে ৯টি জেলা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন রোগী শনাক্তের হার বাড়ায় ২০২৪ সালে উত্তরবঙ্গের সাতটিসহ মোট ১২টি জেলা কুষ্ঠ ঝুঁকিপূর্ণ প্রাদুর্ভাব এলাকা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো-রংপুর, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, পঞ্চগড়, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, মেহেরপুর মৌলভীবাজার, বাগেরহাট এবং পাবর্ত্য জেলা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি। ২০২৩ সালে নতুন কুষ্ঠরোগী শনাক্ত করার ভিত্তিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২৩টি বৈশ্বিক অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশের মধ্যে বাংলাদেশ পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
মন্তব্য করুন