
যশোরের খাজুরা এলাকায় মাদক বিস্তার বাড়ছে। বাজারের অলিগলিসহ প্রায় প্রতিটি এলাকায় গড়ে উঠেছে মাদক স্পট। ফেনসিডিল, ইয়াবা ও গাঁজা এখন হাতের নাগালে। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
অভিযোগ রয়েছে, এলাকায় মাদকের কারবার বাড়লেও খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। বরং ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) রাশেদ সর্দার মাদক কারবারিদের আশ্রয়প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলেও অভিযোগকারীদের দাবি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, খাজুরা বাজারসহ আশপাশের অন্তত ১৫টি স্পটে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চলছে। ডিলার রয়েছে ৩ জন। আর খুচরা বিক্রেতার সংখ্যা তার দশগুণ। মাদক বিক্রির উলে¬খযোগ্য স্পটের মধ্যে রয়েছে, গরুহাট বটতলা ও পাবলিক টয়লেট চত্বর, বাসস্ট্যান্ড-রাজাপুর রাস্তার মুখের পুকুরপাড়, তেলপাম্প আরিফ ভাটার সামনে, ভাটার আমতলা, বন্দবিলা ইউনিয়ন পরিষদ মোড়, শিবের মোড় চৌরাস্তা, জান্নাতের মোড়, ধান্যপুড়া-বন্দবিলা রাস্তা, ধর্মগাতী সাকোই বাঁশতলা ও ঘোপদূর্গাপুর খালপাড় ব্রিজ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় মাদকের কারবার বাড়লেও খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। বরং ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) রাশেদ সর্দার মাদক কারবারিদের আশ্রয়প্রশ্রয় দিচ্ছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজধানীর কদমতলী থানা থেকে বদলি হয়ে তিনি আবারও যশোরে আসেন।
অবিযোগকারীদের দাবি, তদবির বাণিজ্য করে দ্বিতীয়বার তিনি খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পে যোগদান করেন। এর আগেও এখানে একটানা দুই-তিনবছর চাকরি করে গেছেন। সে সময় রাশেদের একটি নিজস্ব চক্র গড়ে উঠেছিল। তাদের মাধ্যমে এখন খুচরা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা তোলা হচ্ছে। আর রাতের আঁধারে ডিলারদের থেকে নিজে টাকা তোলেন রাশেদ। চক্রের সদস্য হিসেবে রয়েছে, পুরাতন মাদক ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী মহলের কয়েকজন ব্যক্তি। শুধু তাই নয়; এএসআই রাশেদের বিরুদ্ধে নিরপরাধ মানুষকে মাদক দিয়ে মামলায় ফাঁসানোর একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
তিনি নিজেকে বিভিন্ন জায়গায় নিজেকে ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিচয় দেন। তার কারণে বর্তমান ইনচার্জ কয়েক মাস আগে যোগদান করা এসআই পিন্টু কুমার মন্ডলও কর্মক্ষেত্রে অনেকটা কোনঠাসা। বর্তমানে এএসআই রাশেদ যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) বদলির জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। তার জন্মস্থান সাতক্ষীরায় হলেও খুলনার পরিচয় দেন এবং নিজেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভাগ্নে পরিচয় দিয়ে প্রতিনিয়ত ক্ষমতার অপব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ।
মাদক মামলার আসামি পারভেজ নামে এক যুবক অভিযোগ করে বলেন, ‘রাশেদ স্যার আমাকে আড়ৎপট্টি থেকে আটক করে দেহতল¬াশি শুরু করে। আমার কাছে কিছু না পেলেও তাৎক্ষণিক তার এক সোর্স এসে রাশেদ স্যারের হাতে এক পুটলি গাঁজা দিয়ে বলেন, এটা দিয়ে চালান দিয়ে দেন।’
আরেক যুবক জানান, ‘সন্ধ্যার পরপরই খাজুরা বাজার ব্রিজঘাট থেকে এএসআই রাশেদ আমার খালাতো ভাই খাইরুল ও তার বন্ধু সুমন মাদক ছাড়াই আটক করে মামলা দেয়। রাশেদ ভাই ৩০ হাজার টাকাও নিলো তবুও তাদের ছাড়েনি।’
খাজুরা বাজারের এক নৈশপ্রহরী বলেন, ‘টাকা হলে খাজুরা এলাকায় যখন তখন মাদক পাওয়া যায়। রাত জেগে কাজ করি তো; তাই একটু বাবা (ইয়াবা) খাই। এটা খেলে আর ঘুম আসেনা।’
জানতে চাইলে খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) রাশেদ সর্দার বলেন, ‘এসবের প্রমাণ যদি কেউ দিতে পারে তাকে পুরস্কৃত করা হবে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের শক্ত অবস্থান।’
বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মন্তব্য করুন