
যশোরের ঝিকরগাছা দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর জমি দখল করে বহুতল ভবণ ও মার্কেট নির্মাণ কাজ শুরুর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও জেলা পরিষদের জমিতে বেশ কয়েকটি দোকান, হোটেল নির্মাণ করে ভাড়া দেয়া রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২১ জানুয়ারি প্রাচীর ঘেরা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর জমি দখল করে ১৬মিলি রড দিয়ে মার্কেট (দোকান) আদলে বহুতল ভবণ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে জানতে চাইলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মহিব্বুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসা সংস্কার বাবদ শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দকৃত ১২ লাখ টাকা দিয়ে টিন সেডের নামাজের ঘর নির্মান করা হচ্ছে।
সরকারি জমিতে বিল্ডিং নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার জেলা পরিষদে গেছেন, প্রাচীর দিয়ে দখলে থাকায় জেলা পরিষদ থেকে নাকি তাকে বিল্ডিং করতে বলেছেন! তবে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কোন কর্মকর্তা বলেছেন তার নাম বলতে পারেননি অধ্যক্ষ মহিবুল ইসলাম।
এ ব্যাপারে মাদ্রাসার বর্তমান সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল¬াহ বলেন, বিষয়টি তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পেরে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের নিকট জানতে চেয়েছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে পূর্বে অবগত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন।
এদিকে ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, সরকারি ডাকবাংলোর জমি দখল করে ইতিপূর্বে যেভাবে হোটেল রেস্তোরা, দোকানপাট ভাড়া দিয়েছেন একইভাবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আর্থিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থে ভবন নির্মাণ করে চলেছেন।
এদিকে ডাকবাংলোর নিজস্ব ৯৩ শতক জমি থাকলেও উলে¬খিত স্থানে নতুন আধুনিক ডাকবাংলো নির্মান না করে পূর্বের সরকারের দেয়া মেইনসড়ক থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দুরে কাটাখাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে ডাকবাংলোর প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের কথা শুনে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান ঝিকরগাছায় সুধী সমাবেশে আসলে স্থানীয়রা বিষয়টি তাকে অবগত করেন। যশোর জেলা প্রশাসকের একটি প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যে স্থান দুটি পরিদর্শন করেছেন। এদিকে পুরাতন ডাকবাংলো ইতমধ্যে সংস্কার কাজ চলছে বলে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রনি খাতুন জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন