সোমবার
২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

যশোর মণিরামপুরের শহীদ ইকবাল কাঁদলেন বহিষ্কারের খবর শুনে

জাহাঙ্গীর আলম, মণিরামপুর (যশোর)
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় যশোরের মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ ইকবাল হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বুধবার রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বুধবার রাতে যখন শহীদ ইকবালের বহিষ্কারের খবর ছড়িয়ে পড়ে, তখন তিনি নিজের অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। বহিষ্কারের খবর শুনে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এ সময় শহীদ ইকবাল নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, দল আমাকে বহিষ্কার করলেও আমি বিএনপি ছেড়ে যাব না। পদ-পদবি না থাকলেও আমি বিএনপিতে থাকব। আমি বিএনপির জন্য এই আসনটি রক্ষা করে দিতে চাই। এরপর নির্বাচনে জয়ী হলে আমি আবার আপনাদের নিয়ে বিএনপিতে ফিরব। টেবিলের ওপর থেকে যখন ধানের শীষের প্রতীক সরিয়ে রেখেছি। তখন আমার বুক ফেটে কান্না এসেছে। দলের জন্য পরিশ্রম কম করিনি। জেল-জুলুমসহ রাত-দিন খেটেছি। সেই দল আমাকে মূল্যায়ন করেনি। এ সময় উপস্থিত সমর্থকেরা পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তাকে কান্না থামাতে অনুরোধ করেন।

মণিরামপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই বলেন, মণিরামপুরে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বারবার জোটের শরিক প্রার্থীর কাছে হেরে যাচ্ছে। বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে আমাদের ১২ জনকে হত্যা করা হয়েছে। শহীদ ইকবালের বাড়িতে ১০ বার হামলা হয়েছে। আমরা মামলায় জর্জরিত হয়েছি। এবার আমরা জোটের হাত থেকে ধানের শীষ উদ্ধারের সংগ্রামে নেমেছি। শহীদ ইকবাল নির্বাচিত হলে আমরা আবার তার হারানো পদ ফিরিয়ে আনতে পারব।

শহীদ ইকবাল হোসেন দীর্ঘদিন থানা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসন থেকে দল তাকে ৪ডিসেম্বর প্রাথমিক মনোনয়ন দেয়। এরপর ২৪ ডিসেম্বর তা পরিবর্তন করে বিএনপির শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (একাংশ) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রশীদ আহমদকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নামেন শহীদ ইকবাল। বুধবার তিনি কলস প্রতীক বরাদ্দ পান।

শহীদ ইকবাল হোসেন ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে দুবার ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রয়াত খান টিপু সুলতানের কাছে হেরে যান। এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনে দল তাকে মনোনয়ন দিয়ে পরে তা পরিবর্তন করে জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতি ওয়াক্কাসকে দেয়।

কয়েক বছর আগে মুফতি ওয়াক্কাস প্রয়াত হলে তার বড় ছেলে রশীদ আহমদ জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের পদ পান। এবারের নির্বাচনে দল শহীদ ইকবালকে মনোনয়ন দিয়ে তা পরিবর্তন করে রশীদ আহমদকে মনোনয়ন দিয়েছে। যা মানতে পারছে না স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যশোরে জাতীয় পার্টির নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত 

শার্শার বসতপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারি খাদ্য

ইনুর মামলার রায় কাল, সরাসরি দেখবে দেশবাসী

ডুমুরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

নেইমারকে ছাড়াই জাপানের বিপক্ষে নামছে ব্রাজিল

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক

অর্থ বিল পাস, যেসব পরিবর্তন এলো 

এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব

যশোরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

যশোরে পাট পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি বিষয়ক মতবিনিময় সভা

যশোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক সেমিনার  

যশোরে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত

মহেশপুরে গাজীরননেছা বালিকা বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

মোরেলগঞ্জে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে নারিকেল চারা ও কৃষি প্রণোদনা বিতরণ

শৈলকুপায় পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুই কিশোরের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ৫৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

মণিরামপুরে সেতুর কাজ থমকে, দুর্ভোগে ২০ গ্রাম

আগামী ইউপি নির্বাচন ঘিরে মণিরামপুরে বিএনপির ঐক্যের শপথ

নড়াইলে গণতন্ত্র অলিম্পিয়াড, অংশ নিলেন ২৭৫ শিক্ষার্থী

যশোর নওয়াপাড়ায় কৃষক দলের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

X