
যশোরে চুরির ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহত শামীম হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড় নিয়েছে। নিহত শামীমের বাবা ছবদুল বিশ্বাস রোববার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে নতুন তথ্য তুলে ধরেছেন।
তিনি দাবি করেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শামীম ছিলেন মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী। তিনি রাতে রাস্তায় ঘুমাতেন, যা ওই এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এ কারণে চুরির অজুহাতে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছেন রামনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ও বলাডাঙ্গা শ্রীকান্তনগর গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম। রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় প্রেসক্লাব যশোরের সামনে নিহতের পরিবার ও সর্বস্তরের এলাকাবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে নিহত শামীম হোসেনের পিতা ছবদুল বিশ্বাসের নেতৃত্বে পরিবার-পরিজনসহ স্থানীয়রা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শামীম হোসেন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তিনি কী করেছেন তা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। যদি তিনি চুরির ঘটনায় অপরাধীও হয়ে থাকেন, তবে তার বিচার হতো। কিন্তু তাকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে । যা মেনে নেয়া যায় না।
তাদের আরও অভিযোগ, রামনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। কয়েকদিন আগে মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় একই এলাকার নাইমুল নামের এক যুবককে কুপিয়ে জখম করা হয় এবং তার বাড়ি থেকে সোনা ও টাকা লুট করা হয়। এ ঘটনায় সাইফুল ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে নাইমুলের মা রেবেকা খাতুন বলেন, ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও তিনি কোনো প্রতিকার পাননি। বিষয়টি নিয়ে তিনি জেলা বিএনপি ও যুবদলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তদন্ত হলেও সাইফুলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার বিরুদ্ধে মাদকের মামলা রয়েছে। একাধিকবার আটকও হয়েছেন। কিন্তু দল তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থায় নেয়না।
নিহত শামীমের বাবা ছবদুল বিশ্বাস বলেন, সাইফুলের দুই ছেলেকে মামলার আসামি করা হলেও সাইফুলকে আসামি করা হয়নি। অথচ সিসিটিভি ফুটেজে তার সংশ্লিষ্টতা স্পষ্ট হয়েছে। তিনি মামলার এজাহারে সাইফুলকে আসামি করার দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, সর্বশেষ শামীম হত্যাকাণ্ডেও পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তারা শামীম হত্যার সঙ্গে জড়িত সকলের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে সাইফুল ইসলামের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে ফোন রিসিভ করেন। বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন। পরে আর ফোন রিসিভ করেননি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলমগীর বলেন, সাইফুলের বিষয়টি মাথায় রেখেই তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে তিনি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে যশোর সদর উপজেলার বলাডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীকান্তনগর বাজারে চুরির সময় শামীম নামের এক যুবককে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রায় অর্ধলাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে মারধর করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় শামীমকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত শামীমের বাবা ছবদুল বিশ্বাস কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার পরপরই দোকান মালিক আরাফাতকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
মন্তব্য করুন