
যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর দায়তলা এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৫ ঘণ্টা ধরে রাস্তা অবরোধ করে রাখে স্থানীয় জনতা। এতে যশোর–নড়াইল–মাগুরা মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই থেকে তিন কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার পর ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা রাম দত্ত সড়ক পারাপারের সময় একটি ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকার মানুষ যে যেখানে ছিলেন, সেখান থেকেই রাস্তায় নেমে পড়েন এবং অবরোধ শুরু করেন। ব্যস্ততম মহাসড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়লে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও চালকরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাদের অনুরোধেও সড়ক ছাড়তে রাজি হননি। তারা এক দফা দাবিতে অনড় থাকেন—ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে স্পিড ব্রেকার নির্মাণ না করা হলে রাস্তা অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না। দীর্ঘ আলোচনার পর সড়ক ও জনপদ বিভাগকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করতে বাধ্য করা হয়।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্পিড ব্রেকার নির্মাণকাজ শুরু হলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং এলাকাবাসী বাড়ি ফিরে যান। সর্বশেষ রাত ১২টা পর্যন্ত স্পিড ব্রেকার নির্মাণকাজ চলতে দেখা যায়।
এ সময় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে থেকে কাজ তদারকি করে। এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ ফারুক আহম্মেদ বলেন,পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
একই সঙ্গে সেনাবাহিনীও মাঠে নামে। একপর্যায়ে সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়। জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে রাতেই স্পিড ব্রেকার নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন