
যশোরের ভবদহ অঞ্চলের মণিরামপুর উপজেলার টেকা নদীর বেড়িবাঁধ ধসে সুজাতপুর বিলের কৃষকের চলতি বোরো আবাদের প্রায় দেড় হাজার ফসলী জমি প্লাবিত হয়েছে। এতে তলিয়ে গেছে বোরো আবাদের বীজতলা। যার কারনে ৬ গ্রামের কৃষকের বোরো আবাদের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে দুঃস্বপ্নই পরিনত হয়েছে। এ ঘটনার পর প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার উদ্বেগ উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছে।
সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসীরা জানান, সুজাতপুর পল্লীমঙ্গল মৎস্য ঘেরের পানি সেচ দিয়ে বোরো আবাদের সিদ্ধান্ত নেয় ঘের মালিক পরিচালনা কমিটি। সে মোতাবেক প্রায় একমাস ধরে ৪০টি মেশিনের মাধ্যমে পানি সেচ দেয়া চলছিল। যাতে করে পানি নিষ্কাশন হলে এলাকার মানুষ বোরো আবাদ করতে পারে। কিন্তু সেচের পানির অতিরিক্ত চাপে ওই ঘেরের দক্ষিণ পাশের টেকা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যায়। এতে ৬ গ্রামের জমির মালিকদের প্রায় কয়েক শত বিঘা জমির বীজতলা নষ্ট হয়ে প্লাবিত হয়ে পড়েছে।
এছাড়াও কুলটিয়া গ্রামের স্বপন রায়ের তিন শতাধিক বিঘা জমির মৎস্য ঘেরের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে মাছ ভেসে গেছে। একই গ্রামের তপন রায়ের মৎস্য ঘেরের উত্তর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ৮শত বিঘায় উৎপাদিত মাছ ভেসে প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলি হলো মণিরামপুর উপজেলার সুজাতপুর, হাটগাছা ও কুলটিয়া এবং অভয়নগর উপজেলার মশিয়াহাটী, বেদভিটা ও বলারাবাদ। এ সব গ্রামে বসবাসরত প্রায় তিন সহস্রাধিক মানুষ বর্তমানে ভেঙ্গে পড়ে উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে।
ইতোমধ্যে অনেকের বাগানবাড়ি, পুকুর, মৎস্য ঘের এবং সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ ব্যাপারে পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি অভয়নগর শাখার আইন বিষয়ক সম্পাদক অনিল বিশ্বাস জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর পক্ষে মৎস্য বিভাগ, কৃষি বিভাগসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে সহযোগিতা প্রয়োজন। তাছাড়া ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ অবিলম্বে সংস্কার না হলে ক্ষতির মাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে।
এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে বৃহস্পতিবার যশোর-৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী, মণিরামপুর উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি অ্যাডভোকেট. শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরিদর্শন করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস্ত করেন। এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সন্তোষ স্বর, কুলটিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাষ্টার হামিদুল ইসলাম, প্রবীণ নেতা পরিতোষ বিশ্বাস, নিপুন বিশ্বাসসহ এলাকার সুধীজন।
মন্তব্য করুন