
যশোরে এক আইনজীবীর মক্কেল ‘ভাগিয়ে’ নিয়ে আরেক আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন করানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জেলা আইনজীবী সমিতির নির্ধারিত নিয়ম উপেক্ষা করে অনুমতি ছাড়াই ওই জামিন আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি জামিন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও আদালত-সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় বুধবার অ্যাডভোকেট মুস্তাকিম মোস্তফা খান জেলা আইনজীবী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম রবির বিরুদ্ধে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে রবিউল ইসলাম রবিকে শোকজ করা হয়েছে।
আইনজীবী সমিতিতে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, আব্দুল আলিম নামের এক আসামির জামিনের জন্য গত ১০ জানুয়ারি যশোর সদর আমলি আদালতে আবেদন করেন অ্যাডভোকেট মুস্তাকিম মোস্তফা খান। আদালত প্রথমে ১১ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করেন। পরে ওই দিন শুনানি পিছিয়ে ১৫ জানুয়ারি নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন বিচারক। কিন্তু এর মধ্যেই, ১৩ জানুয়ারি অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম রবি একই আদালতে ওই আসামির জামিন আবেদন করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, যখন আদালতে নির্ধারিত তারিখ বহাল ছিল, তখন দুই দিন আগেই জামিন মঞ্জুর করা হয়, যা স্পষ্টতই আইনবহির্ভূত। পাশাপাশি কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই অন্য আইনজীবীর মক্কেলের পক্ষে জামিন আবেদন করায় এটিকে সংগঠনবিরোধী বলেও অভিযোগ করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আইনজীবী রবিউল ইসলাম রবি বলেন, মূলত আমার আইনজীবী সহকারী মামলাটি আমার কাছে নিয়ে এসেছিল। আগে কেউ উকালতনামা জমা দিয়েছেন-এ তথ্য আমার জানা ছিল না। জানলে আমি কখনোই ওই জামিন আবেদন করতাম না।
যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম. এ. গফুর বলেন, একজন আইনজীবী অন্য আইনজীবীর মক্কেলের জামিন আবেদন করেছেন এটি গঠনতন্ত্রবিরোধী। এজন্য তাকে শোকজ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখানে আরেকটি গুরুতর অনিয়ম রয়েছে। বিচারক ১৫ জানুয়ারি জামিন শুনানির দিন ধার্য করলেও দুই দিন আগে একই বিচারক জামিন মঞ্জুর করেছেন, যা আইনবহির্ভূত। বিষয়টি নিয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
মন্তব্য করুন