
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় পুলিশের পোশাক পরিহিত দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের মুখে শিশু জিম্মি করে দুইটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে। সোমবার ভোরে উপজেলার বজ্রাপুর ও ভালাইপুর গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোরে বজ্রাপুর গ্রামের আবুল হোসেনের বাড়িতে পুলিশের পোশাক পরা ৪–৫ জন ডাকাত প্রবেশ করে। তারা আবুল হোসেনের নাতনিকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পরিবারের অন্য সদস্যদের আলাদা ঘরে আটকে রাখে। এ সময় ডাকাতরা গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়ে নগদ প্রায় ৬ লাখ টাকা ও ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নেয়।
ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসে। পরে ধাওয়া দিয়ে মাঠের মধ্যে থেকে এক ডাকাতকে আটক করে এলাকাবাসী। গণপিটুনি শেষে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আটক ব্যক্তির নাম শান্ত, তার বাড়ি ঝিনাইদহ সদর থানায়।
এর আগে একই রাতের শেষ ভাগে উপজেলার ভালাইপুর গ্রামের ফরিদ শেখের ছেলে কামাল হোসেনের বাড়িতে একই কৌশলে ডাকাতি করা হয়। সেখানে কামাল হোসেনের মেয়ের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে জিম্মি করে নগদ ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও ২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নেয় দুর্বৃত্তরা।
এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সায়েম ইউসুফ জানান, একজনকে আটক করা হয়েছে এবং তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানে নেমেছে পুলিশ। পৃথক দুটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়।
ভুক্তভোগী আবুল হোসেনের স্ত্রী জানান, ডাকাতরা প্রথমে বাড়ির গেট কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘরের ছিটকিনি খুলতে বাধ্য করে। এরপর অস্ত্র ঠেকিয়ে তার স্বামীকে হত্যার হুমকি দেয়। তারা তার ছেলে ও পুত্রবধূর ঘরেও ঢুকে শিশুকে জিম্মি করে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায়।
মন্তব্য করুন