
যশোরে দুদকের অভিযানে ঘুষের এক লাখ ২০ হাজার টাকাসহ আটক হওয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম ইস্যুতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তদন্ত টিম মাঠে নেমেছে। গতকাল ১১ জানুয়ারি ওই টিমের প্রধান প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক যুগ্ম সচিব মুস্তাফিজুর রহমানসহ উর্ধ্বতন তিন কর্মকর্তা যশোরে অবস্থান নিয়ে শুনানী করেছেন। এসময় আশরাফুল আলমকে নির্দোষ উল্লেখ করে তার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত দুই হাজার প্রাথমিক শিক্ষক তদন্ত টিমের কাছে পৃথকভাবে লিখিত দিয়েছেন।
এছাড়া জেলার ৪৫ জন শিক্ষা কর্মকর্তার কাছ থেকেও লিখিত নিয়েছেন তদন্ত কমিটি। তবে শিক্ষকরা সবাই পক্ষে লিখলেও শিক্ষা কর্মকর্তারা সবাই ডিপিইওর পক্ষে লিখিত দিয়েছেন কিনা তা পরিস্কার হওয়া যায়নি।
এদিকে ডিপিওর পক্ষে আন্দোলনরত শিক্ষকরা এদিন দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে মানববন্ধন করাসহ শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। এতে শহরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
যশোরের বসুন্দিয়া খানপাড়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নূর নবীর কাছ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে দুদক যশোর জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের টিমের হাতে আটক হন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম। ওই রাত থেকেই তাকে নির্দোষ দাবি করে আন্দোলন করে আসছেন যশোরের প্রাথমিক শিক্ষকরা। এরই অংশ হিসেবে গতকাল সকাল থেকে মাঠে ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষকগণ। এদিন সকালে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগীয় তদন্ত টিমের প্রধান প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসন যুগ্ম সচিব মুস্তাফিজুর রহমান, সদস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাপস অধিকারী, খুলনার সহকারি-পরিচালক ফজলে রহমান যশোর সার্কিট হাউজে আসলে সেখানে শিক্ষকদের পক্ষে লিখিতভাবে দেয়া হয় নানা তথ্য। আশরাফুল আলম নির্দোষ এবং তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার উল্লেখ করে ঘটনার বাদী নূর নবীকে দুষ্টু প্রকৃতির উল্লেখ করে বলা হয়, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলমকে মুক্তি দিতে হবে নিঃশর্তভাবে। এরপর সার্কিট হাউস থেকে মিছিল সহকারে যশোরের প্রাথমিক শিক্ষকবৃন্দ দুপুরের দিকে চলে আসেন প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে। এখানে তারা মানববন্ধন করেন। পরে মিছিল নিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করেন।
শিক্ষক নেতা জাহাঙ্গীর আলম, শাহিনুর রহমান, আব্দুল জব্বার, তপন মন্ডলসহ অনেকেই উল্লেখ করেন, ঘটনাটি একেবারে পাতা ফাঁদ। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলমকে সেরেফ ফাঁসানো হয়েছে। তাকে মুক্তি দিতে হবে কোন শর্ত ছাড়াই। আশরাফুল আলমকে মুক্তি দেয়া না হলে প্রাথমিক শিক্ষকগণ আরো দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।
এছাড়া তথ্য মিলেছে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন এই তদন্ত টিম দুদকে অভিযোগকারী নূর নবীর সাথেও কথা বলেন। তার কাছ থেকেও লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেন। এসময় যশোরের দু’হাজারের বেশি শিক্ষক পৃথকভাবে আশরাফুল আলমের পক্ষে লিখিত দিয়েছেন। এছাড়া তদন্ত টিম যশোর টিও এটিও মিলিয়ে জেলায় কর্মরত ৫৩ জন অফিসারের কাছ থেকেও লিখিত নিয়েছেন।
শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রধান যুগ্মসচিব মুস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তদন্ত ও শৃঙ্খলা শাখার ৩৮,০১,০০০০.১০১,২৭,০০৭,২৫-১০ নাম্বার স্মারক পত্রের আলোকে তাকে আহবায়ক করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ৮ জানুয়ারি যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির পক্ষে ১০ ও ১১ জানুয়ারি সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত যশোর সার্কিট হাউজে শুনানী গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি স্পটে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে।
এদিকে যশোর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিক্ষকরা মাঠে রয়েছেন আন্দোলনে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম নির্দোষ বলেই শিক্ষকরা তার মুক্তি চান। তিন সদস্যের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি তদন্ত টিম যশোরে তদন্ত করে গেছেন। গতকাল সারাদিন তদন্ত চলেছে। শুনানীতে তদন্ত টিম আন্দোলনরত শিক্ষকবৃন্দ ও ঘটনার বাদী নুরুন্নবীর সাথে পৃথকভাবে কথা বলেছেন। শিক্ষা কর্মকর্তারাও লিখিত দিয়েছেন। তিনি আশা করছেন তদন্তে বেরিয়ে আসবে আসল ঘটনা।
মন্তব্য করুন