
আসন্ন নির্বাচনে যশোরের সব ভোটকেন্দ্রে ৬টি করে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের টার্গেট করা হয়েছে। এজন্য প্রায় সাড়ে ৬ হাজার ক্যামেরা প্রয়োজন। ইতোমধ্যে সাড়ে ৩ হাজার ক্যামেরা ইনস্টল করা হয়েছে। এছাড়া ভোটের সময় ভোট কেন্দ্রে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পুলিশ বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবে। অধিক ঝুঁকির এলাকায় অনলাইনে কানেক্ট থাকবে বডি ক্যামেরা। যা সরাসরি কন্ট্রোল রুম থেকে নিয়ন্ত্রণ করবে প্রশাসন। যশোর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, গণভোটের ব্যাপারে সরকারের অবস্থান হ্যাঁ ভোট। হ্যাঁ ভোটের জয় আসলে একটা সংস্কার আসবে। ভোট নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।
আইনশৃঙ্খলা কমিটির এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানার সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার যশোরের উপপরিচালক ও পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক রাসেল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মোশারফ হোসেন, ৪৯ বিজিবির উপপরিচালক সোহেল আলী, সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি মেজর মারুফ হাসান প্রমুখ।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, আমাদের টার্গেট রয়েছে সব ভোট কেন্দ্রে ৬ টা করে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা। প্রায় সাড়ে ৬ হাজার ক্যামেরা দরকার। এর মধ্যে সাড়ে ৩ হাজার ক্যামেরা ইনস্টল করা হয়েছে। পৌরসভার ৪৭ টা কেন্দ্রসহ শহরের ক্যামেরা স্থাপন ও সচলের কাজ করবে পৌরসভা। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে হবে। ভোটের আগে হয়ত আর এই মিটিং হবে না। গণভোটের ব্যাপারে সরকারের অবস্থান হ্যাঁ ভোট। হ্যাঁ ভোটের জয় আসলে একটা সংস্কার আসবে। ভোট নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। সকল বাহিনী যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করবে। সামনে বড় ধরণের অভিযান আসছে। দুষ্টুচক্র আছে তারা ভোট সামনে রেখে সুযোগ নিতে পারে। আমরা আশাবাদী সকলে মিলে একযোগে কাজ করলে যশোরের পরিবেশ ভালো থাকবে।
সভায় ভোটকেন্দ্রে সিসি টিভি ক্যামেরা সংযুক্ত, ফুটপাতের দখল উচ্ছেদ করে শহরের যানজট মুক্ত করা, অবৈধ অস্ত্র, মাদক উদ্ধার, নিপা ভাইরাল সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, প্রতিদিন উচ্ছেদ অভিযানসহ জেলায় প্রতিদিন একটা করে যৌথবাহিনীর অভিযান পরিচালনার কথা হয়। এছাড়া ডিসি অফিস চত্বরে অযথা ঘোরাঘুরি বা টিকটক ভিডিও বানানোর বিষয়েও সভায় কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে অযথা দর্শনার্থীরা ডিসি অফিসে ঢুকতে পারবে না। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
সভায়, স্থানীয় সরকার বিভাগ যশোরের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান বলেন, যশোর শহরে যানজটের কারণে চলাচল করা যাচ্ছে না। অভিযান চালালে একটি শ্রেণি বলে মানবিকতা বলে কিছু নাই। কিন্তু যানজট নিরসনে আইনের প্রয়োগের বিকল্প নেই। তাই আমরা শহরে প্রতিদিন একবার করে অভিযান চালাবো। গরিবশাহ মাজার থেকে মনিহার, দড়াটানা থেকে জেল রোড পর্যন্ত প্রতিদিন অভিযান করা হবে। অবৈধ ইজিবাইক, রিকসাও আটক করা হবে।
সভায় সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি মেজর মারুফ বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে শার্শা ও চৌগাছা উপজেলা বাদে সব উপজেলায় ক্যাম্প থাকবে। ভোটের সময় পরিস্থিতি খুব বেশি জটিল না হলে আর্মি কল করা থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রথমে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করবে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন পড়লে সরাসরি অ্যাকশনে নামবেন তারা।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার বলেন, যশোরে পরপর দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এখানে ব্যক্তিগত শত্রুতা ব্যবসা জড়িত। টার্গেট ক্লিলিং নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। যুবদল নেতা হত্যার বিষয়ে আসামি আটক করা হয়েছে। মণিরামপুরের বিষয়টি সেনসেটিভ হওয়াতে এখনি কিছু বলা যাচ্ছে না। হত্যাকান্ডে মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা শহরে আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান পরিচালনা করছি। মাদক, অস্ত্র বিশেষ করে ককটেল আমাদের জন্য হুমকি। আমরা আশা করছি ভোটের আগে সব কিছু ঠিক থাকবে। ভোটের সময় ভোট কেন্দ্রে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পুলিশ বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবে। অধিক ঝুঁকির এলাকায় অনলাইনে কানেক্ট থাকবে বডি ক্যামেরা। যা সরাসরি কন্ট্রোল রুম থেকে নিয়ন্ত্রণ করবে প্রশাসন।
মন্তব্য করুন