
যশোরে তিনটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে অভিযান চালিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। মঙ্গলবার দিনব্যাপী সিভিল সার্জন ডাক্তার মাসুদ রানা খাজুরার ফারিয়া প্রাইভেট হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক, খাজুরা ক্লিনিক এন্ড ডায়গনস্টিক সেন্টার ও মা জেনারেল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্স অভিযান পরিচালনা করে বন্ধ ঘোষণা করেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকবে। বুধবার রাতে সিভিল সার্জন অফিসের প্রধান সহকারী পারভিন আক্তার বানু বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসাবে সিভিল সার্জন ডাক্তার মাসুদ রানা, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ইউসুফ আলীর নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তারা দেখতে পান এ সব প্রতিষ্ঠানে নেই আর নেই। থাকে না ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার, নেই বৈধ কাগজপত্র, রিপোর্ট ছাড়া হয় ভুয়া মেডিকেল টেকনোলজিস্টির স্বাক্ষরে। অপারেশন থিয়েটার পরিদর্শন করে দেখতে পায় জরাজীর্ণ অবস্থা। অপারেশনে ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলোর বেহাল অবস্থা। মানা হচ্ছে না নিয়মনীতি। নেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। একই রকম অবস্থা দেখা যায় প্যাথলজি ও স্যাম্পল রুমেও।
এছাড়া, ওয়ার্ডগুলোতে ছিল গুমোট পরিবেশ। সেখানে রয়েছে মারাত্মক অক্সিজেনের ঘাটতি। রয়েছে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ, অপর পাশে শুয়ে আছেন নবজাতক ও মায়েরা। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নেই বললেই চলে। নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। এ সকল অভিযোগে খাজুরার ফারিয়া প্রাইভেট হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক, খাজুরা ক্লিনিক এন্ড ডায়গনস্টিক সেন্টার ও মা জেনারেল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্স বন্ধ ঘোষণা করেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ সব প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। সিভিল সার্জন মাসুদ রানা জানান, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি অসাধু পন্থা অবলম্বন করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অনুমোদনহীন কোনো প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাতে পারবে না। এ সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে রয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। অভিযান অব্যহত থাকবে।
মন্তব্য করুন