
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে হঠাৎ করে বিএনপির প্রার্থী বদল হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে যেনো বজ্রাঘাত হয়েছে। এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম (একাংশ) এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাস। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ইতোপূর্বে প্রাথমিকভাবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাড. শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছিল। এই প্রার্থী বদলের প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যায় মণিরামপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।
বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম (একাংশ)-এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাস। ১২ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে রশীদ ওয়াক্কাস বিগত সময়ে বিএনপির প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। সেই ধারাবাহিকতা এবং ইসলাম ও দেশের জন্য তার বাবা মুফতি ওয়াক্কাস অনন্য অবদানের বিবেচনায় তাকে যশোর-৫ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে রশীদ ওয়াক্কাস তার বাবার দেখানো পথে যশোর-৫ আসনের মানুষের সেবায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে তিনিই ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাসের জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম (একাংশ) অনিবন্ধিত হওয়ায় তাকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানে শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে।
এদিকে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী বদলে নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ ইতোপূর্বে বিভিন্ন নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে জোটের শরীক দলকে ছাড় দিয়েছে। এবার প্রাথমিকভাবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাড. শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছিল। এতে নেতাকর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। প্রার্থী শহীদ ইকবালও নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েন। ফলে এই আসনে ধানের শীষের নতুন জোয়ার সৃষ্টি হয় বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করেই প্রার্থী বদলের ঘোষণায় তাদের মাথায় বজ্রাঘাত হয়েছে। ফলে এই নেতাকর্মীদের জোটের শরীকের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামানো কিভাবে সম্ভব হবে তা নিয়েও দুশ্চিন্তা রয়েছে। এ জন্য নেতাকর্মীরা এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্যও কেন্দ্রের কাছে আবেদন করেছেন।
ইতোপূর্বে প্রাথমিকভাবে মনোনীত উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাড. শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, কেন্দ্রের সিনিয়র নেতাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছু বলার নেই। তবে এই সিদ্ধান্তে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। তাই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। মণিরামপুর উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু জানিয়েছেন, মণিরামপুরে বিএনপির প্রার্থীর পরিবর্তে জোটের প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবে- এটি তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মানতে পারছেন না। এ জন্য তাদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। তাই তারা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সিদ্ধান্ত বদল না হলে নির্বাচনে এর প্রভাব পড়ারও আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে নতুন মনোনীত প্রার্থী মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাস জানিয়েছেন, যেহেতু প্রাথমিক একজনকে মনোনয়ন দেওয়ার পর প্রার্থীর পরিবর্তন হয়েছে, সেক্ষেত্রে কিছুটা ক্ষোভ হতাশা থাকবেই। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি করেন। তাই দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে তারা তার সাথেই থাকবেন। তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামবেন।
এদিকে, যশোর-৫ মণিরামপুর আসনটি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দেওয়ার প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যায় পৌরশহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপির হাজারো নেতাকর্মী। পৌরশহরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে দলিয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করেন নেতাকর্মীরা। এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মফিজুর রহমান, অ্যাডভোকেট মকবুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি খাইরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই, বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্তার খান, খান শফিয়ার রহমান, সন্তোষ স্বর প্রমুখ। সমাবেশে বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন, এ আসনে বিজয়ী হতে হলে জমিয়তের গণবিচ্ছিন্ন যুগ্ম মহাসচিব রশিদ বিন ওয়াক্কাসের পরিবর্তে বিএনপির সভাপতি জনপ্রিয় নেতা শহীদ ইকবালকে মনোনীত করতে হবে।
মন্তব্য করুন