
গ্রামের কাগজে ‘সাইনবোর্ডে ডেন্টাল সার্জনের নাম-পদবি, চিকিৎসা দেন হাতুড়ে ডাক্তার’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর কথিত ডাক্তার আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে। ২১ ডিসেম্বর যশোর জেনারেল হাসপাতালের সাবেক এক ডেন্টাল সার্জন কাগজ দপ্তর ও সিভিল সার্জনের কাছে আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ করেছেন। অভিযোগকারী ডেন্টাল সার্জন জানান, ৫ আগস্টের আগে আনোয়ার হোসেন নিজেকে যশোর সদর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্যের আত্মীয় পরিচয় দিতেন। তবে বাস্তবে কাজী পরিবারের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। সূত্র জানায়, এক সময় আনোয়ার রূপদিয়া এলাকায় ছোট পরিসরে গ্রাম্য ডাক্তারি শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি এলাকায় প্রচার করেন যে তিনি ডেন্টাল বিষয়ে ডিগ্রিধারী। এরপর নিজ উদ্যোগে চেম্বার খুলে দাঁতের চিকিৎসা শুরু করেন। প্রায় তিন বছর আগে এক নারীর দাঁতে রুট ক্যানেল করতে গিয়ে তিনি মারাত্মক ভুল চিকিৎসা করেন। ওই নারীর মাড়ি পর্যন্ত তুলে ফেলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী নারী সিভিল সার্জন অফিসে লিখিত অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসে। সে সময় আনোয়ারকে সিভিল সার্জন অফিসে ডেকে পাঠান ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাক্তার নাজমুস সাদিক রাসেল। তখন আনোয়ার দাবি করেন, ওই রোগীর চিকিৎসা করেছেন ডেন্টাল সার্জন ডাক্তার সুষ্মিতা সেন কেয়া। পরবর্তীতে ওই ডেন্টাল সার্জনের নাম ও পদবি ব্যবহার করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে নিজেই চেম্বারে রোগী দেখা শুরু করেন আনোয়ার। জানা গেছে, তিনি প্রতিমাসে ওই সাইনবোর্ডের জন্য ভাড়া পরিশোধ করে আসছেন। অপর একটি সূত্র জানায়, আনোয়ার নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে গ্রামের সহজ-সরল রোগীদের কাছ থেকে রোগীপ্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। তিনি এলাকায় এমনও প্রচার করেন যে, তাকে দেখাতে হলে অন্তত ১৫ দিন আগে সিরিয়াল দিতে হবে। অন্যথায় তিনি রোগী দেখেন না। রূপদিয়া বাজারের হাজী মার্কেট এলাকায় ‘হক ডেন্টাল কেয়ার’ নামে চেম্বার খুলে অপচিকিৎসা করছেন বলে অভিযোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যশোর জেনারেল হাসপাতালের সাবেক এক ডেন্টাল সার্জন জানান, আনোয়ারের অপচিকিৎসার শিকার হয়ে একাধিক রোগী তার কাছে চিকিৎসা নিয়েছেন। অনেক রোগী সিভিল সার্জন অফিসে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আনোয়ার আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের নাম ভাঙিয়ে নানা সুবিধা ভোগ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। আনোয়ারের শ্যালকের নামও আনোয়ার। তিনি কাজী নাবিল আহমেদের বাড়ির একজন কর্মচারী। নামের মিল থাকায় সেই পরিচয়কে পুঁজি করে দীর্ঘদিন নানা সুবিধা আদায় করতেন কথিত এই ডাক্তার। এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডাক্তার মাসুদ রানা বলেন, কথিত ডাক্তার আনোয়ারের প্রতারণার বিষয়ে আমরা অবগত। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন