
ঝিকরগাছা পায়রাডাঙ্গায় আজিজ গংয়ের জমি জবরদখল অপতৎপরতায় অতিষ্ট হয়ে পড়েছে একটি পরিবার। আদালতের রায় অমান্য করে পুকুর অবৈধভাবে দখলে রেখে উল্টো জমি মালিক পরিবারের সদস্যদের উপর হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।
মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। এসব ব্যাপারে থানায় অভিযোগ ও জিডি করা হলেও পুলিশ নির্বিকার ভূমিকা পালন করছেন বলে ভূক্তভোগী পরিবারের পক্ষে শফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন। তিনি দ্রুত ঘটনার সঠিক তদন্ত ও আজিজ চক্রের বিরুদ্ধে জোরালো ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
থানায় দেয়া অভিযোগ ও জিডি থেকে তথ্য মিলেছে, ঝিকরগাছা পায়রাডাঙ্গা মৌজার ৫৭২ নাম্বার দাগে ৬ শতক পুকুরের জমি বৈধ কাগজপত্রে প্রকৃত মালিক জবেদ আলী মোড়লের পরিবার। ওই পুকুরের জমির উপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে একই গ্রামের আব্দুল আজিজ, শিমুল হোসেন, শাহিন হোসেন ও মশিয়ার রহমানসহ কয়েকজনের। তারা ওই পুকুরের জমি জবরদখল করতে শত্রুতা শুরু করে। এমনকি ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে জমির মালিক সেজে একটি মামলাও করে আজিজ পক্ষ। মামলা নাম্বার ১৪৯৭/২৪। আদালত গত ১৫ সেপ্টেম্বর আব্দুল আজিজ পক্ষের বিরুদ্ধে রায় প্রদান করেন। আদালত থেকে মামলার রায় শফিকুল ইসলামের পক্ষে আসা সত্তেও বিরোধীয় পুকুরটি জবরদখলে যায়। শফিকুল পক্ষ পুকুরে মাছ ছাড়লেও তাদের ধরতে না দিয়ে জবরদখলে রখেছে পুকরটি। গত ৯ নভেম্বর সকাল অনুমান ৮ টার সময় শফিকুল ইসলাম, তার ভাই রফিকুল ইসলাম ভাই বউ আসমা খাতুন পুকুরে মাছ ধরতে গেলে আজিজ পক্ষ গালি গালাজ করতে থাকে। প্রতিবাদ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে আজিজ পক্ষ মারপিট করা শুরু করে শফিকুল ইসলাম, তার ভাই রফিকুল ইসলাম ভাই বউ আসমা খাতুনকে। তাদের উদ্ধার করে ঝিকরগাছায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
শফিকুল ইসলাম পক্ষ অভিযোগ করেছেন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা করে হেরে গিয়েও (পিটিশন নং-১৪৯৭/২৪) জমি কেন্দ্র করে আব্দুল আজিজ পক্ষ বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিচ্ছে। এব্যাপারে থানায় অভিযোগ ও জিডি করা হলেও পুলিশ কার্যকরি ভূমিকা রাখছেনা। কার্যত পুলিশ ওই অভিযুক্ত আজিজ পক্ষ নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। বৈধ মালিক পক্ষ হলেও তারা পুকুরের মাছ বিক্রি করতে পারছেননা। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আব্দুল আজিজ পক্ষ যে কোনো সময় তাদের ক্ষতি সাধন করতে পারে। আর নিয়ে আইন শৃঙ্খলার অবনতির আশংকা করছেন।
এদিকে ঝিকরগাছা পৌর ভূমি অফিসের উপ সহকারী কর্মকর্তা আক্তারুজ্জমান একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, ৬৫ নং পায়রাডাঙ্গা মৌজার এস,এ ১১৯ নং খতিয়ানে সাবেক ৫৭২ নং দাগে ৬ শতক জমি ছুরত আলী মন্ডল, কুদরত আলী মন্ডল ও জবেদ আলী মন্ডলের নামে রেকর্ড আছে। এস,এ ৫৭২ নং দাগ থেকে সৃজিত আর,এস ৫৬৪ নং দাগে আর,এস ২৪২ নং খতিয়ানে জবেদ আলী মন্ডলে নামে ৩ শতক ও ৩৩৩ নং খতিয়ানে ৫৬৪ নং দাগে সিরাজুল ইসলামও পিকুল হোসেনের নামে ৩ শতক জমি রেকর্ড আছে। আজিজ পক্ষ আর, এস এ কোন রেকর্ড প্রাপ্ত হননি। নালিশী সম্পত্তি আজিজ পক্ষ ও শফিকুল পক্ষ একই পরিবার ভুক্ত এজমালি পুকুর হওয়ায় আপোষমতে ভোগদখলে আসছেন। তবে শফিকুল ইসলাম পক্ষ রেকর্ডভূক্ত সম্পত্তি হিসেবে ভোগ দখলে আছেন।
মন্তব্য করুন