
খুলনায় গুলিতে নিহত যুবক যশোরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও দেড় ডজন মামলার আসামি সাগর শেখ। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে খুলনার রূপসা সেতুর পূর্ব পাশে জাপুসা এলাকার চৌরাস্তার পূর্ব পাশে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত সাগর শেখ যশোর শহরের রেলগেট পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা ফয়েজ শেখের ছেলে। তার ভাই রমজান শেখও ছিলেন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। রমজানের বিরুদ্ধে ছিল ৩২টি মামলা। ২০২৪ সালের ৮ মার্চ নিজ এলাকায় কুপিয়ে তাকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। সাগর শেখ দীর্ঘদিন ধরে খুলনায় আত্মগোপনে ছিলেন।
রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক মীর জানান, গোলাগুলির শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে ৯৯৯ থেকে পুলিশকে ঘটনাটি অবহিত করা হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, সাগরের মাথায় একটি এবং হাঁটুতে অপর একটি গুলি লেগেছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে নিহত ব্যক্তি ওই এলাকায় জমি কিনে নতুন বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। তবে কারা এবং কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জানা গেছে, তিনি এর আগে যশোরে অবস্থান করতেন।
এদিকে, রেলগেট পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দারা জানান, মূলত সাগর শেখ দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। তার ভাই রমজান শেখও ছিলেন সন্ত্রাসী। রমজান যুবলীগ নেতা ম্যানসেলের সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। চলতি বছরের ১৬ মে বেলা ৩টার দিকে র্যাব অভিযান চালিয়ে খুলনার রূপসা এলাকা থেকে সাগর শেখকে আটক করে। পরে তাকে যশোর আদালতে সোপর্দ করা হয়। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি পুনরায় রূপসা এলাকায় ঘাঁটি গড়েন।
এদিকে, র্যাবের একটি সূত্র জানায়, সাগর শেখ হত্যা, ডাকাতি, বিস্ফোরক, অস্ত্র, হত্যাচেষ্টা, চুরি ও মাদকসহ মোট ১৯টি মামলার আসামি। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কাজলিয়া গ্রামে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি সাবেক সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহম্মেদের অনুসারী ছিলেন। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
মন্তব্য করুন