
যশোরে শ্রীমা সারদাদেবীর ১৭৩তম আবির্ভাব তিথি উদযাপিত হয়েছে। মানবসেবা ও মানবিক উন্নয়নের আহ্বান জানানোর মধ্যে দিয়ে যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশনের আয়োজনে বৃহস্পতিবার এ আবির্ভাব তিথি উদযাপিত হয়।
আশ্রমের মূল মন্দিরে মঙ্গলারতি, বৈদিক স্তোত্র পাঠ ও সমবেত প্রার্থনার মাধ্যমে ভোর পাঁচটা থেকে সূচনা হয় এ উপলক্ষে আয়োজিত নানা অনুষ্ঠানমালার। এরপর সকাল আটটায় শুরু হয় শ্রীমা সারদাদেবীর বিশেষ পূজা, হোমযজ্ঞ, ভজন সংগীত ও পুষ্পাঞ্জলি প্রদান।
এছাড়া ‘শ্রীমা সারদা দেবীর জীবন ও আদর্শ’ শীর্ষক বিষয়ভিত্তিক আলোচনা হয়।
আলোচনা শেষে অন্নপ্রসাদ বিতরণের পর বিকেলে দেড় শতাধিক শীতার্তের মাঝে কম্বল প্রদান করা হয়।
আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন নড়াইল মনোরঞ্জন কাপুড়িয়া কলেজের অধ্যক্ষ তাপসী কাপুড়িয়া। সভাপতিত্ব করেন যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সরকারি নার্সিং কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ চায়না খাঁ। আলোচক ছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডক্টর প্রিয়াঙ্কা পাল, সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দীপ্তি মিত্র। স্বাগত বক্তব্য দেন যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশনের সহ-সম্পাদক স্বামী আত্মবিভানন্দ।
ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সারদা সংঘ যশোরের সভানেত্রী লিলি ঘোষ। সঞ্চালনা করেন অনুসূয়া ঘোষ। উদ্বোধনী সংগীত ও ভক্তিগীতি পরিবেশন করেন সারদা সংঘ যশোরের শিল্পীবৃন্দ। শ্রীমা সারদাদেবীর আবির্ভাব তিথির এ আয়োজনে ভক্তি ও শ্রদ্ধায় সমর্পিত হয়ে শামিল হন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভক্ত।
প্রসঙ্গত, ১৮৫৩ সালের ২২ ডিসেম্বর, বাংলা ১২৬০ সনের ৮ পৌষ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার জয়রামবাটী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সারদা দেবী। তার যখন মাত্র পাঁচ বছর বয়স, সেই সময় ২৩ বছর বয়সী শ্রীরামকৃষ্ণের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ও সারদা দেবীকে ভক্তেরা স্বয়ং নারায়ণ ও লক্ষ্মী দেবী বলে মনে করেন। সারদা দেবীতে জগদ্ধাত্রী রূপে পুজো করেছিলেন রামকৃষ্ণদেব। রামকৃষ্ণদেবের প্রয়াণের পরে তার আদর্শে ধর্ম আন্দোলনে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন সারদা মা।
মন্তব্য করুন