
‘নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি’ এ প্রতিপাদ্য নিয়ে যশোরে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে জেলা প্রশাসক সভাকক্ষে আলোচনা সভা ও অদম্য নারী পুরস্কার দেয়া হয়।
এতে যশোরে জেলা পর্যায়ে ৪ জন ও সদর উপজেলা পর্যায়ে ৫ জন সংগ্রামী নারীকে এ সম্মাননা দেয়া হয়। এছাড়াও অন্যান্য উপজেলাগুলোতে অনুরূপ কর্মসূচি পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অনিতা মল্লিক। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহম্মদ আশেক হাসান।
এ সময় তিনি বলেন, নারীদের দক্ষ, যোগ্য ও নৈতিক জ্ঞান সম্পন্ন হতে হবে। যিনি এই গুণের অধিকারী তাকেই মূলত অদম্য নারীর স্বীকৃতি দেয়া উচিৎ। অদম্য নারী পুরস্কারের জন্য ৫টি ক্যাটাগরিতে যারা যারা আবেদন করেছেন তারা সবাই সংগ্রামী নারী। কারণ বাংলাদেশের প্রতিটি নারীই সংগ্রামের মাধ্যমেই এগিয়ে যান। তেমনি যারা এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন তারা যেমন আগামীতে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। এবং আগামীতে নতুন নতুনরাও এগিয়ে আসবেন। তাহলেই বাংলাদেশের উন্নয়নের পরিবর্তন সবার ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাফফাত আরা সাঈদ, প্রেসক্লাব সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, জেলা এনসিপি’র আহবায়ক নুরুজ্জামান, জুলাই যোদ্ধা সালমা আক্তার আশালতা।
দিবসটি উপলক্ষে জেলা পর্যায়ে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন প্রিয়াংকা রানী সুর। তিনি একই ক্যাটাগরিতেও বাঘারপাড়া উপজেলা পর্যায়েও শ্রেষ্ঠ হয়েছেন। শিক্ষাও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারীর পুরষ্কার গ্রহণ করেন সুলতানা রাজিয়া, সফল জননী নারী শ্যামলী রানী পাল, নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী শরিফা ইয়াসমিন, সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদানে সুষমা বেগম। পরে তারা অদম্য নারী পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে অনুভূতি ব্যক্ত করেন। তাদের ক্রেস্ট, সনদপত্র ও ফুল দিয়ে সম্মাননা দেয়া হয়।
একই সাথে সদর উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী সুলতানা রাজিয়া, সফল জননী নারী হাসনা বানু, নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী শরিফা ইয়াসমিন, সমাজ উন্নয়নে সুষমা বেগম ও অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী জেসমিন আক্তার।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, কোন একটি গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসাই যোগ্যতা নয়, তাকে প্রকৃত অর্থেই যোগ্য হয়ে উঠতে হবে। নারী পুরুষ উভয়কেই দক্ষ, যোগ্য ও নৈতিক জ্ঞান সম্পন্ন হতে হবে। আমাদের দক্ষ, যোগ্য ও নৈতিক জ্ঞান সম্পন্ন মানুষ প্রয়োজন। এভাবেই একটি আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে উঠবে এবং আমরা সফল হব। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার নারীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিক্ষক আহসান হাবিব পারভেজ।
মন্তব্য করুন