মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
অন্তরঙ্গ ভিডিও ছেড়ে দিয়েছিল বখাটে প্রেমিক নাজমুল

থানায় অভিযোগ দিয়েও বাঁচতে পারলো না স্কুল ছাত্রী নাদিয়া

অভিজিৎ ব্যানাজী
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৩৭ এএম
স্কুল ছাত্রী নাদিয়া ও বখাটে প্রেমিক নাজমুল  ¦ ছবি: গ্রামের কাগজ

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক স্থাপন ও ভিডিও করে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ তুলে বখাটে প্রেমিক নাজমুল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েও বাঁচতে পারেনি রামকৃষ্ণপুরে কিশোরী স্কুল ছাত্রী নাদিয়া আক্তার (১৫)। ৮ ডিসেম্বর মধ্যরাতে বখাটে প্রেমিকের বাড়ির পাশের একটি গাছে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায় গ্রামের লোকজন। নাদিরা ইছালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণির ছাত্রী ও প্রবাসী মকবুল মোল্লার মেয়ে।

তাকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দাবি। এছাড়া থানায় অভিযোগ করার পর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নাদিরা ও তার পরিবারের লোকজনকে হত্যার হুমকি পর্যন্ত দেয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে, অভিযুুক্ত নাজমুলের স্বজনেরা প্রচার করছে সে আত্মহত্যা করেছে। পুলিশ বলছে প্রাথমিকভাবে অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।

পরিবার, স্থানীয় ও থানা সূত্র থেকে তথ্য মিলেছে, গত ২৬ অক্টোবর ভুক্তভোগী নাদিয়া আক্তার একই গ্রামের নাছির মোল্লার ছেলে নাজমুল হোসেনের (২৭) বিরুদ্ধে অভিযোগ করে জীবনাশঙ্কার কথা বলে প্রতিকার দাবি করে। নাদিয়া অভিযোগ করে, নাজমুল তাকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করাসহ আজেবাজে কথাবার্তা বলতে থাকে। এছাড়া বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদর্শনসহ চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। একপর্যায় তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এছাড়া অন্তরঙ্গ সম্পর্কের ভিডিও ও ছবি ফোনে সংরক্ষণ করে রাখে। বিয়ের কথ বললে নামজুল কয়েকবার তার সহযোগীর সহায়তায় শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও বিভিন্ন লোকের মোবাইল ফোনে শেয়ার করে দেয়। এই অনৈতিক কাজে নাজমুলের সাথে যোগ দেয় তার সহযোগী একই গ্রামের নজরুল মোল্লার ছেলে মিরাজুল, মৃত আমিন মোল্লার ছেলে ফায়জুর, বাহারুলের ছেলে নাঈম, নাছির মোলার ছেলে হোসেন ট্যাপা ও রহমানের ছেলে বাবু। এরা সবাই একটি রাজনৈতিক বলয়ে জড়িত।

নাজমুলসহ ওই চক্রটি এলাকার বিভিন্ন লোকের মোবাইল হোয়াটসঅ্যাপেও ছবি পাঠিয়ে নাদিরাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্নসহ মানসম্মানের ক্ষতি করছে। একইসাথে ব্লাকমেইল করে ২ লাখ টাকা দাবি করে। এছাড়া ৭০ হাজার টাকা নেয়ার পরও নাজমুল তার ওই ৫ সহযোগীর সহায়তায় মারপিট ও খুন জখমের হুমকি দেয়।

এই অভিযোগ থানায় দেয়ার পর হুমকি আরো বাড়তে থাকে। থানা পুলিশ ওই অভিযোগের কি তদন্ত করেছিল বা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিয়েছিল তা পরিস্কার হয়নি। তবে ৮ ডিসেম্বর মধ্যরাতে নাদিয়ার মরদেহ গাছে ঝুলানো অবস্থায় পাওয়া যায় বখাটে ও প্রতারক প্রেমিক নাজমুলের পাড়ির পাশেই। স্থানীয়রা মরদেহ ঝুলতে দেখে ৯৯৯-এ ফোন দিলে যশোর কোতোয়ালি পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মরদেহটি গলা ও গাছের সাথে গামছা পেচিয়ে ঝুলানো ছিল। তবে মরদেহটির পা মোড়ানো অবস্থায় ছিল। এতে করে এটা হত্যাকান্ড বলে ধারণা করছেন তারা। তাদের দাবি, ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর থেকে নাদিয়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। সর্বশেষ মধ্যরাতের দিকে নাজমুলের বাড়ির পাশে গাছ থেকে ঝুলন্ত পাওয়া যায় মরদেহ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নাজমুলের সাথে নাদিয়ার সম্পর্ক ছিল বেশ কিছুদিনের। তার সরলতার সুযোগ নিয়ে নগ্ন ভিডিও করে এই নাজমুল, ভাই মিরাজুল, ফয়জুর রহমান, বাবু ওরফে বাবুল, গাঁজা কামাল ও নাজমুলের অপর ভাই হোসেন নাদিয়াকে বিভিন্ন সময় হুমকি ধামকি দিত এবং নাজমুল নিজে সেই নগ্ন ভিডিও ফেসবুকে অনলাইনে ছেড়ে দেয়। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নাজমুল গং নাদিয়ার জীবন অতিষ্ট করে তোলে। সর্বশেষ উপায় না পেয়ে দুই মাস আগে থানায় অভিযোগ করেও প্রতিকার পায়নি নাদিয়া। শেষমেশ হত্যা করা হল তাকে। নাদিয়া আক্তার নদীর পরিবারের দাবি, প্রতারক প্রেমিক ও তার পরিবারের লোকজন নাদিয়াকে হত্যা করে মরদেহ লাশ গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে।

তার চাচা লোকমান বাঙালি মোল্লা জানিয়েছেন, নাদিরার সাথে একই গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে নাজমুলের তিন বছর আগে থেকে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ সময় নাজমুল বিয়ের প্রলোভন দিয়ে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। বিষয়টি গত ছয় মাস আগে জানাজানি হয়। তখন ছেলের পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে নেয় না। এক পর্যায়ে নাজমুলও তাকে প্রত্যাখ্যান করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৮ ডিসেম্বর রাতে নাদিয়া প্রেমিক নাজমুলের বাড়িতে বিয়ের দাবি নিয়ে যায়। তখন ছেলের ভাই হাসান, হোসেনসহ পরিবারের লোকজন নাদিয়াকে মারপিট করে হত্যা করে। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বাড়ি থেকে গামছা ও মেয়ের শরীরে থাকে ওড়না পেঁচিয়ে বাড়ির উঠানের আম গাছের সাথে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার করতে থাকে।

এ ব্যাপারে যশোর কাতোয়ালি থানার পরিদর্শক তদন্ত কাজী বাবুল হোসেন জানিয়েছেন, নাদিয়ার মরদেহ গাছে ঝুলার সংবাদ ঢাকার জরুরি সেবা কল সেন্টার ৯৯৯ থেকে পাওয়া যায়। পরে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে গভীর রাতে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রেম সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাদিয়ার মৃত্যু হয়েছে। তবে এটা হত্যা না কি আত্মহত্যা তা এখনো পরিস্কার হওয়া যাযনি। মরদেহ ময়না তদন্ত প্রতিবেদন আসলে সব পরিস্কার হবে।

তিনি বলেন, মরদেহ উদ্ধারের মাস দুয়েক আগে নাদিরা নিজেই থানায় নাজমুলসহ ওই পরিবারের ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। তবে স্থানীয়ভাবে ওই সময় অভিযোগটির মিমাংসা হয়েছিল বলে তথ্য আসলে পুলিশ আর এগোয়নি। হত্যাকান্ড হলে জড়িতদের অবশ্যই আটক ও শাস্তির আওতায় আনা হবে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যশোরসহ ২০ অঞ্চলে ঝড়ের সম্ভাবনা

উত্তাল বঙ্গোপসাগর, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

ঘুসের টাকা গুনে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, বাগমারা থানার পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

মহম্মদপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশকে নতুন সিল

রামিসা হত্যা: সোহেল ও স্বপ্না ‘কনডেম সেলে’

কেশবপুরে শরীকানা পুকুরের মাছ লুটের অভিযোগ

রাজশাহীতে বিভাগীয় পর্যায়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

পাবনায় হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, নিহত ৩

রাজশাহীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

ফের বাড়ল তেলের দাম

বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেনাল্টি গোলের রেকর্ডে লিওনেল মেসি

দেশে ফিরলেন ৪৫১৫৮ হাজি, মৃত্যু ৪৯

নওগাঁয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা

যশোরে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা, চাকু উদ্ধার

কালীগঞ্জে সর্বত্র মাদকের রমরমা ব্যবসা / হুমকির মুখে যুবসমাজ, আতঙ্কে অভিভাবকরা

২০২৬-২৭ বাজেট: যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে

দেশের ১৪ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস

নড়াইলে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার, ২ মাসের কারাদণ্ড

স্ত্রীকে তালাক দিয়ে শাশুড়িকে বিয়ে!

X