
ইজিবাইক চুরি ও ইয়াবা ব্যবসায় বাধা দেয়ায় সংঘবদ্ধ চোর সিন্ডিকেটের হাতে ডাকাতিয়ার চঞ্চল মাহমুদ (৩০) খুন হলেও অভিযুক্তদের তিনজন এখনও আটক এড়িয়ে চলছে। এখানেই শেষ নয় আটক সিন্ডিকেট প্রধান রবিউলের পক্ষে তার আজ্ঞাবহরা মামলা মিটিয়ে নিতে নানামুখি চাপ সৃষ্টি করছে বলে তথ্য মিলেছে। যে কারণে উৎকণ্ঠায় সময় কাটছে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের। নিহতের মা হাসিনা বেগম রয়েছেন নানা উৎকণ্ঠায়। পলাতক আসামি আটকের এব্যাপারে জরুরি পুলিশি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে ওই পরিবারের পক্ষে।
গত ৯ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ডাকাতিয়া গ্রামের মধু গাজীর ছেলে চঞ্চল মাহমুদকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এসময় মাটিতে লুটিয়ে পড়া চঞ্চল মাহমুদকে তুলতে বাবা মধু গাজী, মা হাসিনা বেগম ও ছোট ভাই তুহিন এগিয়ে আসলে তাদেরকেও আহত করা হয়। এ ঘটনায় ওই দিন রাতে থানায় মামলা করেন নিহতের মা হাসিনা বেগম। আসামি করা হয় ডাকাতিয়ার কানা জামালের ছেলে রবিউল ইসলাম, বিল্লাল হোসেন, রকিবউলের ছেলে মুন্না, একই গ্রামের আবুল হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া মৃত বেলায়েত মোল্লার ছেলে সাদ্দাম হোসেন ( মূল বাড়ি শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকায়), ডাকাতিয়ার ভুট্টোর ছেলে আসিফ (২১), কানা জামালের স্ত্রী ফুলি বেগম (৫০) ও সাদ্দামের স্ত্রী রুপালী বেগমকে।
ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত ৪ জনকে পুলিশ আটক করে পুলিশ। এরা হচ্ছে আন্তজেলা ইজিবাইক ও রিকসভ্যার জোর সিন্ডিকেটের প্রধান ডাকাতিয়ার রবিউল ইসলাম (৩৮), তার ভাই বিল্লাল হোসেন (৪০) ছেলে মুন্না (১৮) ও একই গ্রামের সাদ্দামের স্ত্রী রুপালি বেগম (৩৫)। তবে আটক এড়িয়ে চলছে মামলার ৩ আসামি সাদ্দাম আসিফ ও ফুলি বেগম।
স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্র থেকে তথ্য মেলে মাস কয়েক আগে ডাকাতিয়া গ্রামের মধু গাজীর ছেলে চঞ্চল মাহমুদের একটি ইজিবাইক চুরি হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা এবং ভুক্তভোগী চঞ্চল এলাকার আলোচিত চোর সিন্ডিকেট প্রধান রবিউল ইসলাম গংকে সন্দেহ করে এবং স্থানীয়দের মাধ্যমে ইজিবাইকটি ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ করে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে চোর সিন্ডিকেট প্রধান রবিউল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও অভিযোগ ছিল রবিউল ও বিল্লাল এলাকায় ইয়াবার ব্যবসা করে। ইয়াবা বিক্রিতে বাধা দেয়ায় চঞ্চল ও তার বাবার উপর ক্ষিপ্ত ছিল রবিউল ও বিল্লাল। এই বিরোধের জের ধরে ৯ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে রবিউলের নেতৃত্বে চোর ও মাদক ব্যবসায়ী চক্র হামলা চালায়। চোর সিন্ডিকেট প্রধান রবিউল ইসলাম প্রথমে চঞ্চলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে।
মামলায় পলাতক আসামি সাদ্দাম আসিফ ও ফুলি বেগমকে আটকে কোনো অভিযান পরিলক্ষিত হচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামের লোকজন। উল্টো চোর রবিউলের স্ত্রী তাদের বাড়ি ভংচুরের অভিযোগ তুলে নিহত চঞ্চল মাহমুদের স্বজনদের নামে মামলা দিয়ে হয়ারানী করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের প্রত্যক্ষ অনেক স্বাক্ষীর বিরুদ্ধেও সাজানো ভাংচুর মামলা দেয়া হয়েছে। কৌশলে হত্যা মামলাটি তুলে নেয়ার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। পুলিশ পলাতক আসামিদের না ধরে কয়েক সপ্তাহ চোর রবিউলের বাড়ি পাহারা দিয়েছে বলেও অভিযোগ গ্রামের অনেকের। তারা দ্রুত পলাতক সাদ্দাম, আসিফ ও ফুলি বেগমের আটক দাবি করেছেন। এছাড়া আটক হন্তারক রবিউলসহ ৪ জনের কঠোর শাস্তি চেয়েছেন।
নিহত চঞ্চলের বাবা মধু গাজী ও ভাই তুহিন জানিয়েছেন, রবিউল ও বিল্লালের নেতৃত্বে এলাকায় প্রকাশ্যে ইয়াবার ব্যবসা চলত। তার ছেলে চঞ্চল হোসেন তাদের ইয়াবা ব্যবসায় বাধা দেয়ায় তারা ক্ষুব্ধ ছিল। রবিউল বিল¬াল ও মুন্নাসহ কয়েকজন দুর্বৃত্ত এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে চঞ্চলকে হত্যা করেছে। এছাড়া লোক মাধ্যমে মামলা মিটিয়ে নেয়ার কথা বলছে। এমনকি তাদের উপর হামলার ঘটনা দেখেছে এমন লোকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা ভাংচুরের মামলা দিয়েছে। এব্যাপারে তারা প্রতিকার ও পলাতক আসামি আটক দাবি করেছেন।
এব্যাপারে যশোর কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত কাজী বাবুল হোসেন জানিয়েছেন, পলাতক আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে। এছাড়া বাদী পরিবারের হতাশা উৎকণ্ঠার কোনো কারণ নেই। কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা বা চাপ সৃষ্টি করা হলে পুলিশকে জানালে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া ভাংচুর মামলাটি সুষ্ঠু তদন্ত হবে। কাউকে হয়রানী করা হবেনা।
মন্তব্য করুন