সোমবার
২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

মুক্তেশ্বরী দখলের সত্যতা মিললেও ঝুলে গেছে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া

প্রতিবাদে আন্দোলনে নামছেন ক্ষুব্ধ বিলপাড়ের বাসিন্দারা
মিলন রহমান
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:০৮ এএম
মুক্তেশ্বরী দখলের সত্যতা মিললেও ঝুলে গেছে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া

যশোরের ভাতুড়িয়ায় মুক্তেশ্বরী নদী দখল করে তৈরি করা প্লট উচ্ছেদ প্রক্রিয়া ঝুলে গেছে। নদী দখলের সত্যতা মেলায় গত অক্টোবর মাসে জেলা নদী রক্ষা কমিটির সভায় এই দখল উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ বিলম্বিত হওয়ায় ‘নদীখেকো’রা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে। আদালত থেকে তারা অস্থায়ী নিধেষাজ্ঞার আদেশ পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, দখল উচ্ছেদ বিলম্বিত হওয়ায় হরিণা বিলপাড়ের বাসিন্দাদের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী বলছেন, দ্রুত দখল উচ্ছেদ করে বিল থেকে পানি নামিয়ে দিলে প্রায় এক হাজার বিঘা জমিতে বোরো আবাদ সম্ভব হবে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ধীরে ধীরে দখল প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে একটি প্রভাবশালী চক্র যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া ও ভাতুড়িয়া পূর্বপাড়ার মাঝের মুক্তেশ^রী নদীর সম্পূর্ণ অংশ ভরাট করে নেয়। এরপর গত জুলাই মাসে জমিতে প্লট তৈরি করে বিক্রির জন্য নোটিশ টাঙায়। এ নিয়ে গত আগস্ট মাসে গ্রামের কাগজসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। দখল উচ্ছেদে স্থানীয়রা একাট্টা হলে গত ২৪ আগস্ট জেলা নদী রক্ষা কমিটির সভায় বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কমলেশ মজুমদারের নেতৃত্বে চার সদস্যের এই কমিটি ২৫ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করে। এই প্রতিবেদনে মুক্তেশ^রী দখলের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

ভাতুড়িয়া মৌজা অংশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায় সিএস রেকর্ডে মুক্তেশ^রী নদীর ভাতুড়িয়া অংশে চাঁচড়া জমিদার রাজা বরদাকান্ত রায়ের নামে সিএস ১৯৭৮ ও ১৯৮০ নং দাগের ৩৮১ শতক খাল শ্রেণি হিসেবে রেকর্ড হয়ে মুক্তেশ^রীর অংশ হিসেবে সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত ছিল। এসএ রেকর্ডেও রাজা বরাদাকান্ত রায়ের ওয়ারেশগণের নামে ওই জমি খাল শ্রেণি হিসেবে নদীর অংশ এবং উন্মুক্ত ছিল। কিন্তু এরপর আরএস মাঠ জরিপে সরকারের পক্ষে কালেক্টর, যশোরের নামে ৩৪০ শতক খাল ও ধানী হিসেবে রেকর্ড হয়। আরএস জরিপ রেকর্ডে সেই জমি (৩৮১ শতক) মোস্তফা কামাল উদ্দিন, মোস্তফা জালাল উদ্দিন ও মোস্তফা আওয়াল উদ্দীনের নামে পুকুর ও ধানী জমি হিসেবে রেকর্ড হয়ে যায়।’ অর্থাৎ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তেশ^রীর এই অংশ সরকারি হলেও অনিয়মের মাধ্যমে তা ব্যক্তিমালিকানায় রেকর্ড হয়েছে।

এই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গত ২৯ অক্টোবর নদী রক্ষা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সিদ্ধান্ত হয়, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুততার সাথে উক্ত ভরাটকৃত অংশ পুনঃখননের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ সহায়তা প্রদান করবেন।’

এদিকে, নদী রক্ষা কমিটির এই সিদ্ধান্তের পর এক মাস পার হলেও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার সুযোগে গত ১ ডিসেম্বর যশোর সদর সিভিল

জজ আদালতের দ্বারস্থ হন জমির রেকর্ডধারী মোস্তফা জামাল উদ্দিন। আদালত মোস্তফা জামালের আর্জি আমলে নিয়ে মুক্তেশ^রী খননে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। ওই জমির কেয়ারটেকার যশোর রেজিস্ট্রি অফিসের এক সময়ের পিয়ন নূর ইসলাম নুরু জানান, ওই জমির মালিক মোস্তফা জালাল উদ্দিন আদালতে মামলা করেছেন। আদালত ওই জমিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

মুক্তেশ^রী দখলের প্রতিবেদন এবং আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কমলেশ মজুমদার জানান, তারা আদালতের নির্দেশনা পেয়েছেন। তবে ওই নদীর জমি দখল এবং ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ডের সত্যতা তারা পেয়েছেন। এ ব্যাপারে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, দখলমুক্ত করার উদ্যোগ থমকে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন ভাতুড়িয়ার বিল হরিণা এলাকার মানুষ। তারা আশায় বুক বেঁধেছিলেন, দ্রুত মুক্তেশ^রী খনন হলে বিল হরিণার জলাবদ্ধ এলাকার পানি নেমে যাবে। এতে অন্তত এক হাজার বিঘা জমিতে বোরো আবাদ সম্ভব হবে। কিন্তু এই দীর্ঘসূত্রতায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে।

ভাতুড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মাসুদুর রহমান জানান, হরিণার বিলপাড়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মুক্তেশ^রীর এই প্লট অপসারণের জন্য আন্দোলন করে আসছেন। জালিয়াতি করে জমির রেকর্ড ও দখলের সত্যতা প্রশাসনের তদন্তে উঠে আসায় এবং দখল উচ্ছেদের সিদ্ধান্তে তারা আশাবাদী হয়েছিলেন। তাদের আশা ছিল, দ্রুত নদী খনন করা হলে বিলের পানি নেমে যাবে এবং তারা এবারই বোরো আবাদ করতে পারবেন।

একই এলাকার বাসিন্দা তৌহিদুর রহমান জানান, জমি জালিয়াত চক্রটিকে যখন উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা কাগজপত্র নিয়ে হাজির হতে বলেছিলেন, তখন তারা সেখানে যাননি। এখন আদালতের মাধ্যমে সময় ক্ষেপনের চেষ্টা করছেন। এর মাধ্যমে তারা দখল বজায় রাখতে চান। এরপর বিলপাড়ের মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। এজন্য ক্ষুব্ধ বিলপাড়ের বাসিন্দারা আজ শুক্রবার ভাতুড়িয়া ছোট নারায়ণপুর ব্রিজের পাশে গণসমাবেশের ডাক দিয়েছেন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা, বাড়ছে নদীর পানি

আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে অতিরিক্ত সময়ের গোলে দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

ইরানে বড় হামলা চালাতে ইসরায়েলে রিফুয়েলিং বিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

নুসরাত ফারিয়ার নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘লাপাত্তা’

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রথমার্ধ! গোলশূন্য বিরতিতে আর্জেন্টিনা ও স্পেন

ইসরায়েলি সংসদে বিক্ষোভের মুখে কক্ষ ছাড়লেন নেতানিয়াহু

মাঝমাঠের তীব্র লড়াইয়ে ম্যাচ এখনো গোলশূন্য

বিশ্বজয়ের চূড়ান্ত লড়াই, স্পেনের আক্রমণের সামনে দেয়াল তুলছে আর্জেন্টিনা

কলা ছাড়াও পটাসিয়াম সমৃদ্ধ যেসব ফল ও সবজি খাবেন

যশোর সীমান্ত পরিবহন বাস মালিক সমিতি  আজিমুল সভাপতি ও রানা সাধারণ সম্পাদক মনোনীত

তৌহিদী জনতার বাধায় যশোর ঈদগাহ মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ দেখানো বন্ধ

নড়াইলে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে রাজমিস্ত্রিকে হত্যা

বাংলাদেশের আইন মেনেই শেখ হাসিনার বিচার করা হবে: আইনমন্ত্রী

অভয়নগরে চাঁদার দাবিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর মারপিট, আটক ৪ 

মোংলায় আওয়ামী লীগের ‘গুপ্ত কার্যক্রম’ প্রতিহতের ঘোষণা বিএনপির

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক ঐক্যের ডাক দিলেন নিপুণ রায় চৌধুরী

নড়াইলে প্রধান শিক্ষককে ছুরিকাঘাত, অফিস সহকারী পলাতক

আর্জেন্টিনা জিতলে বিয়ে? যা বললেন পরীমণি

রুদ্ধশ্বাস জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

জ্বরের মৌসুমে যা খাওয়া দরকার

X