
চাকরির গ্রেড একাদশ থেকে দশমে উন্নীতকরণের দাবিতে যশোর জেনারেল হাসপাতালে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা। বৃহস্পতিবার অর্ধদিবস চলা এ কর্মসূচির কারণে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। এর ফলে হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। কর্মসূচির কারণে জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগে সীমিত পরিসরে সেবা চললেও হাসপাতালের ল্যাব, রেডিওলজি, এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ সব পরীক্ষাকেন্দ্র কার্যত অচল হয়ে পড়ে। পরীক্ষার জন্য সকাল থেকে লাইনে দাঁড়ানো শত শত রোগীকে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে দেখা যায়। অনেকেই বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা করাতে যান, যা তাদের আর্থিক চাপে পড়তে হয়েছে। হাসপাতালে আসা রোগীদের জন্য বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহকারী কেন্দ্রটিও বন্ধ রাখা হয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে। এতে প্রেসক্রিপশন হাতে নিয়ে অপেক্ষায় থাকা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা যায়। অনেক রোগী জানান, ওষুধ না পেয়ে তারা চিকিৎসা শুরু করতে পারছেন না, আবার কেউ কেউ বাড়তি খরচে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য হয়েছেন। রেকসোনা নামে এক নারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিনামূল্যের ওষুধ বন্ধ, পরীক্ষা বন্ধ, কিভাবে হাসপাতাল চলবে? সব কষ্ট গরিব তাদের মতো রোগীদের জন্য। সকাল ১০ থেকে দেড় ঘন্টাও দাঁড়িয়ে থেকে ওষুধ না পেয়ে এখন বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। বাইরের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খাবার মতো তার সামর্থ্য নেই। আন্দোলন শেষ হলে আবারও হাসপাতালে আসবেন ওষুধ নিতে। হাসপাতালের দাঁড়িয়ে থাকা সোলাইমান হোসেন জানান, গ্রাম থেকে এসেছি। ডাক্তার পরীক্ষা লিখে দিয়েছেন, কিন্তু পরীক্ষা হচ্ছে না। অবস্থা খারাপ, এখন বাধ্য হয়ে ক্লিনিকে পরীক্ষা করাতে হবে। কিন্তু আমার কাছে টাকা নেই। তাই বাধ্য হয়ে ফিরে যাচ্ছি। আন্দোলনকারীদের জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা দশম গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেও ফল পাওয়া যায়নি। তাদের দাবি, একই ধরনের যোগ্যতা ও দায়িত্ব পালন করেও তারা তুলনামূলক কম সুবিধা পাচ্ছেন। তাই দাবি পূরণে বাধ্য হয়েই তারা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এ আন্দোলন চলমান থাকবে।
মন্তব্য করুন