
যশোর সদরের কাজীপুর গ্রামের নূর সোলাইমান নয়নকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগে নয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার নয়নের পিতা বদর উদ্দিন বাদী হয়ে এ মামলা করেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা শারমিন অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য কোতোয়ালি থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী শেখ তাজ হোসেন তাজু।
আসামিরা হলেন—কাজীপুর গ্রামের মুন্সিপাড়ার নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী রোজিনা, ছেলে মুন্না; রামনগর গ্রামের মিজানুর রহমান এবং তার দুই ছেলে নয়ন ও হৃদয়; রবিউলের ছেলে পারভেজ; রোস্তম সরদারের ছেলে আনার; রবিউল ও তার ছেলে পারভেজ।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, নূর সোলাইমান ও আসামি মুন্নার বাড়ি পাশাপাশি। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে আসামিরা নূরের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং খুন–জখমের হুমকি দেয়। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় গত ৩০ নভেম্বর রাতে আসামিরা নূর সোলাইমানকে তার বাড়ির সামনে পেয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। নূরের চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যসহ প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত নূরকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ না করায় তিনি আদালতে এ মামলা করেছেন।
২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইসলামী ব্যাংকের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা কাগজ সংবাদ ১২ কোটি টাকা লোন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইসলামী ব্যাংকের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যশোর আদালতে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার যশোর শহরের রেল রোডের বাসিন্দা এবং শার্শার রাড়ীপুকুর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ সরদারের ছেলে আলী আকবর বাদী হয়ে এই মামলা করেন।
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা শারমিন অভিযোগের তদন্ত করে সিআইডি পুলিশকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আসামিরা হলেন—বেনাপোল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা ও বর্তমানে ঝিনাইদাহ কালীগঞ্জ ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজার তরিকুল ইসলাম এবং যশোর ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা আব্দুর রহিম সরদার।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, ব্যবসার সুবাদে আলী আকবরের সঙ্গে আসামিদের পরিচয় ছিল। ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য তিনি ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এসময় আলোচনার প্রেক্ষিতে আসামিরা তাকে যশোর ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে ১২ কোটি টাকা লোন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। লোন করে দিতে তারা ৫০ লাখ টাকা দাবি করে ঢাকার দুটি ব্যাংক হিসাব নম্বর দেন।
আসামিদের কথায় বিশ্বাস করে ২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আলী আকবর মোট ২০ লাখ টাকা তাদের ওই হিসাবগুলোতে জমা দেন। টাকা নেওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা লোন করে দিতে ব্যর্থ হয়। পরে টাকা ফেরত চাইলে আসামিরা গড়িমসি করতে থাকে। টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে চলতি বছরের ৩ নভেম্বর আলী আকবর তাদের লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। নোটিশ গ্রহণ করেও তারা টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো হুমকি দেয়।
সর্বশেষ ২৫ নভেম্বর আসামিদের ডেকে টাকা চাইলে তারা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর টাকা ফেরত না পেয়ে তিনি আদালতে এই মামলা করেন।
মন্তব্য করুন