মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দর্শনা পৌরসভার ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়ম, প্রকৃত দরিদ্ররা বঞ্চিত

হারুন অর র‌শিদ-রাজু, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা)
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
দর্শনা পৌরসভার ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়ম, প্রকৃত দরিদ্ররা বঞ্চিত

প‌বিত্র ঈদুল ফিতর‌কে সাম‌নে রে‌খে দ‌রিদ্র জন‌গো‌ষ্টির সরকা‌রের দেয়া ভি‌জিএফ'র কা‌র্ডের মাধ্য‌মে চাল বিতর‌ণে অনিয়‌মের অভি‌যোগ উঠে‌ছে। প্রকৃত পাপ্যরা হ‌য়ে‌ছে ব‌ঞ্চিত। ব‌ঞ্চিতরা চো‌খের জ‌লে ভাসা‌লেন বুক।

দর্শনা পৌরসভার ভিজিএফ'র কা‌র্ডের মাধ্য‌মে চাল বিতরণে তালিকা জটিলতা, অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে পৌরসভার ৩, ৪ ও ৭ নাম্বর ওয়ার্ডে প্রকৃত দরিদ্র, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও অসহায় অনেক মানুষ‌কে চাল না পেয়ে কাদতে কাদতে বাড়ি ফিরতে দেখা গে‌ছে। অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে কিছু সচ্ছল ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীও ভিজিএফের চাল পেয়েছেন। যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, দর্শনা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের উপকারভোগীদের জন্য কার্ডপ্রতি ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী ১ নাম্বর ওয়ার্ডে ৩৩৫ জনের জন্য ৩ হাজার ৩৫০ কেজি, ২ নাম্বর ওয়ার্ডে ৩৯০ জনের জন্য ৩ হাজার ৯০০ কেজি, ৩ নাম্বর ওয়ার্ডে ৩৩৫ জনের জন্য ৩ হাজার ৩৫০ কেজি, ৪ নাম্বর ওয়ার্ডে ৩৩৩ জনের জন্য ৩ হাজার ৩৩০ কেজি, ৫ নাম্বর ওয়ার্ডে ৩৪২ জনের জন্য ৩ হাজার ৪২০ কেজি, ৬ নাম্বর ওয়ার্ডে ৩৪২ জনের জন্য ৩ হাজার ৪২০ কেজি, ৭ নাম্বর ওয়ার্ডে ২৮৩ জনের জন্য ২ হাজার ৮৩০ কেজি, ৮ নাম্বর ওয়ার্ডে ৩৯৭ জনের জন্য ৩ হাজার ৯৭০ কেজি ও ৯ নাম্বর ওয়ার্ডে ৩২৮ জনের জন্য ৩ হাজার ২৮০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ৯টি ওয়ার্ডে মোট ৩ হাজার ৮৫ জন উপকারভোগীর জন্য ৩০ হাজার ৮৫০ কেজি চাল বরাদ্দ রয়েছে।

এর মধ্যে গতকাল বুধবার সকাল থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত ৩,৪ ও ৭ নং ওয়ার্ডের ভিজিএফ'র চাল বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। জানা যায়, গত মঙ্গলবার দর্শনা পৌর কর্তৃপক্ষ ভিজিএফের চাল সুষ্ঠুভাবে বিতরণের লক্ষ্যে ৯টি ওয়ার্ডের রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে সভা করেন। ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে পৌরসভায় জমা দিতে হবে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এক সপ্তাহ পার হলেও অনেক ওয়ার্ডে এখনো তালিকা সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত হয়নি। আবার কোথাও কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যার ফলে পুরো কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ৩, ৪ ও ৭ নাম্বর ওয়ার্ডে চাল বিতরণের সময় দেখা যায়, তালিকায় নাম না থাকায় অনেক অসহায় মানুষ চাল পাননি। ভুক্তভোগীদের মধ্যে অনেকেই বয়োবৃদ্ধ, কেউবা বিধবা, কেউ স্বামী পরিত্যক্তা, আবার কেউ এমন আছেন যারা চলাফেরা করতে পারেন না বা ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবনযাপন করেন। অথচ তারাই এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

চাল নিতে এসে তালিকায় নাম না পেয়ে অনেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও অসহায় নারী চোখের পানি ফেলতে ফেলতে ফিরেছেন বা‌ড়ি। ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের দুনিয়ায় কেউ নেই। ছেলে নেই, মেয়ে নেই, স্বামী নেই। কাজ করার শক্তিও নেই। আমরা মানুষের দয়ার ওপর বা ভিক্ষা করে বেচে থাকি। তাহলে আমরা কেন এই চাল থেকে বঞ্চিত হবো? অভিযোগ রয়েছে, চাল বিতরণের সময় বিভিন্ন অনিয়মও চোখে পড়েছে। স্থানীয় সূত্র জানা গে‌ছে, একজন মহিলা একাই ১৭টি টোকেন বা কার্ড নিয়ে ভিজিএফের চাল নিতে আসেন। বিষয়টি পৌর কর্মচারী শাহ আলমের নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে টোকেনগুলো জব্দ করেন।

এছাড়াও কিছু সচ্ছল ব্যক্তি এ ভিজিএফের চাল পেয়েছেন। যেমন কেরু অ্যান্ড কোম্পানিতে চাকরি করেন এমন কয়েজন ব্যক্তি এবং বাজারে কাপড়ের ব্যবসা করেন এমন কয়েকজনও এ চাল পেয়েছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। অথচ প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের নাম তালিকায় না থাকায় তারা চাল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, এই ধরনের ঘটনা সামাজিক বৈষম্য ও অনিয়মেরই প্রতিফলন। যেখানে প্রকৃত দরিদ্ররা বঞ্চিত হয়ে সচ্ছলরা সুবিধা ভোগ করছে। সচেতন মহল মনে করেন, পৌর কর্তৃপক্ষের স্বদিচ্ছায় তালিকা অনুযায়ী চাল বিতরণ সুষ্ঠু হলেও যারা প্রকৃতভাবে প্রাপ্য তারা অনেকেই বঞ্চিত হয়েছেন।

রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মাধ্যমে তালিকা তৈরির পরিবর্তে পৌর কর্তৃপক্ষ যদি নিজেরাই আগের মতো সরাসরি তালিকা প্রস্তুত কর‌তো, তাহলে হয়তো এ ধরনের জটিলতা ও বিতর্ক সৃষ্টি হতো না। প্রকৃত দরিদ্র মানুষও বঞ্চিত হতেন না। এ বিষয়ে দামুড়হুদা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও দর্শনা পৌর প্রশাসক শাহিন আলম বলেন, আমরা পৌর কর্তৃপক্ষ চেয়েছি সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে ভিজিএফের চাল পৌছে দিতে। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে পৌর কর্মচারীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

নেতৃবৃন্দদের বলা হয়েছিল ভোটার আইডি কার্ড যাচাই করে প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করে দায়িত্বপ্রাপ্ত পৌর কর্মচারীর কাছে হস্তান্তর করতে। তবে এখনো কিছু ওয়ার্ডের তালিকা সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে পুরো চাল বিতরণ শেষ করতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে।

এদিকে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের দাবি, তালিকা পুনরায় যাচাই করে যারা সত্যিকার অর্থে এ সহায়তার যোগ্য তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুত ভিজিএফের চাল বিতরণের ব্যবস্থা করা হোক। অনেকের মতে, বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া না হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বৈষম্য ও অভিযোগ থেকে যাবে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত হাজারের বেশি

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও তারুণ্য ধরে রাখবে কাঁকরোল

মণিরামপুরে ইমামুল হত্যাকাণ্ডে আটক হুসাইনের স্বীকারোক্তি

ঋণের প্রলোভনে টাকা আত্মসাত, মাহমুদাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

পাওনা টাকা চাওয়ায় ভাতিজার মারধরে বৃদ্ধ নিহত

সেবা নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা সাধারণ মানুষের

মণিরামপুর পৌরসভার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা

এস আলমের প্রভাবমুক্ত ইসলামী ব্যাংকের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন

কেশবপুরে ভূমি সহকারীর বাড়িতে অজ্ঞান পার্টির হানা

একনেক সভায় ১০ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন

জামায়াতের ৮.৩৯ লাখ কোটি টাকার ছায়া বাজেট প্রস্তাব

পুরুষ বন্ধুদের কাছ থেকে উপহার পেতে আনুশকার অস্বস্তি!

মণিরামপুরে নাতনীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় নানাকে কুপিয়ে হত্যা, আটক-১

তথ্য উপদেষ্টা / স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয়, থাকবে না দলীয় প্রতীক

যশোরসহ ২০ অঞ্চলে ঝড়ের সম্ভাবনা

উত্তাল বঙ্গোপসাগর, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

ঘুসের টাকা গুনে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, বাগমারা থানার পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

মহম্মদপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশকে নতুন সিল

রামিসা হত্যা: সোহেল ও স্বপ্না ‘কনডেম সেলে’

কেশবপুরে শরীকানা পুকুরের মাছ লুটের অভিযোগ

X