
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রায় সামান্য ওঠানামা থাকলেও চলমান শৈত্যপ্রবাহ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। হাড় কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে শহরের জনজীবনে স্থবিরতা নেমেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। বিশেষভাবে দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক ও ছিন্নমূল মানুষরা।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার জানায়, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৩ শতাংশ। পূর্ববর্তী রেকর্ডে, বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তাপমাত্রা নেমেছিল ৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি শীতকালে সর্বনিম্ন রেকর্ড।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, আগামী ১১ বা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত এই শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। চিকিৎসকেরা জানান, শিশু ও প্রবীণদের মধ্যে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়াতে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
তীব্র শীতে শিক্ষার্থীরাও বিপাকে পড়েছেন। ভোরে প্রাইভেট ক্লাসে যাওয়ার সময় কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে যানবাহনে চলাচল কষ্টকর হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে হেঁটে যাতায়াত করছেন, যা শরীরকে কিছুটা গরম রাখলেও হাত-পা তীব্রভাবে শীতে জমে যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতিও কমেছে।
শীতের কারণে দোকান-ব্যবসায়ও প্রভাব পড়েছে। সকালে ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকে, বেলা ১১টার পর কিছুটা প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও লেনদেন স্বাভাবিকের তুলনায় কম হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামিনুর রহমান জানান, জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ আগামী ১১-১২ জানুয়ারি পর্যন্ত থাকতে পারে।
মন্তব্য করুন