
পৌষ মাসের শেষভাগে এসে তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চুয়াডাঙ্গার জনজীবন। জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ঘন কুয়াশা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার ফোঁটা বৃষ্টির মতো ঝরতে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৭ জানুয়ারি) জেলায় চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল প্রায় ৯৫ শতাংশ। এর আগের দিন মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
টানা তিন দিন সূর্যের দেখা না মিললেও বুধবার সকালে কিছুটা রোদের দেখা মিলেছে। তবে উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষ ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কম থাকায় শীতের অনুভূতি বেশি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে, ফলে শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে জেলার চারটি উপজেলায় শীতার্ত মানুষের মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নগদ অর্থ সহায়তার বরাদ্দও পাওয়া গেছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, শীতার্ত মানুষের সংখ্যার তুলনায় এই সহায়তা অত্যন্ত অপ্রতুল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত শীতবস্ত্রের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন