
মোংলা নদীর দুই পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ ও পণ্য পরিবহনের সংকট নিরসনে আগামী জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই চালু হচ্ছে ২৪ ঘণ্টার বিরতিহীন ফেরি সার্ভিস। একই সঙ্গে এই নদীর ওপর একটি স্থায়ী ঝুলন্ত সেতু (সাসপেনশন ব্রিজ) নির্মাণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সোমবার (২৫ মে) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এই সুসংবাদের কথা জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদুল ইসলাম।
রোববার (২৪মে) রাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এক জরুরি বৈঠক শেষে কাজের এই ইতিবাচক অগ্রগতির কথা তিনি ফেসবুক বার্তার মাধ্যমে মোংলাবাসীসহ সকলকে অবহিত করেন।
প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া ফেসবুক পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, মোংলা নদীর দুই পারে নতুন পন্টুন স্থাপন ও সার্বক্ষণিক ফেরি সার্ভিস চালু করার বিষয়ে তিনি বাগেরহাট জেলা প্রশাসক, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং মোংলা উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তার সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। নদীটির মূল চ্যালেঞ্জ হলো তীব্র স্রোত ও নাব্যতা সংকট। আর এই সংকট দূর করে ২৪ ঘণ্টা ফেরি চলাচল সচল রাখতে ইতিমধ্যে নদীতে জরুরি ড্রেজিং বা খনন কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে নদীর চরিত্র, মাটির গুণাগুণ এবং পলিমাটি রাখার জায়গা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে, যাতে কোনোভাবেই নতুন করে নদীভাঙনের ঝুঁকি তৈরি না হয়। একই সাথে নাব্যতা সংকট বিবেচনা করে সঠিক ও নিরাপদ ফেরি সংগ্রহের কাজও অব্যাহত রয়েছে।
যেকোনো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনিক উইংগুলোর মধ্যে সমন্বয় একটি বড় বিষয়। প্রতিমন্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, মোংলা ফেরি সার্ভিসের ক্ষেত্রে সেই জটিলতা কেটে গেছে। ইতিমধ্যে মোংলা পৌরসভার পক্ষ থেকে বিআইডব্লিউটিএ-কে আনুষ্ঠানিক অনাপত্তি পত্র (এনওসি) দেওয়া হয়েছে এবং গঠিত বিশেষ তদারকি কমিটি মাঠপর্যায়ে তাদের কাজ শুরু করে দিয়েছে। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মোংলা ও রামপাল অঞ্চলের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে এবং মোংলা বন্দর ও ইপিজেডের ক্রমবর্ধমান পণ্য পরিবহনের চাপ সামলাতে একটি স্থায়ী সেতু অপরিহার্য। সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই মোংলা নদীর ওপর একটি আধুনিক ঝুলন্ত ব্রিজ নির্মাণের জোরালো প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। একই সাথে তিনি এলাকার উন্নয়নে সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন এবং আসন্ন ঈদ উপলক্ষে মোংলা ও বাগেরহাটবাসীকে অগ্রিম ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
মন্তব্য করুন