
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ পানগুছি নদীর তীরবর্তী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড বারইখালী গ্রাম নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে নতুন করে ৪শ’ পরিবার পরেছে বিপাকে। ভাঙ্গন প্রতিরোধে ৬ মাস পূর্বে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেললেও আসছে না কোন কাজে। স্থানীয়দের অভিযোগ দায়সারা ভাবে কাজ করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান উধাও। ভূক্তভোগী পরিবারদের দাবী বর্ষা মৌসুমের পূর্বেই বাঁধ দিয়েই রাস্তা ঠেকাতে না পারলে সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হবে পৌরবাসীদের। পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট জরুরী পদক্ষেপ গ্রহনের দাবী।
শুক্রবার সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপকূলিও বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পানগুছি নদীর অব্যাহত ভাঙ্গন থেমে নেই এ জনপদের মানুষের জীবন যাত্রার দীন দীন ব্যাহত হচ্ছে নতুন করে দেখা দিয়েছে পৌর শহরের ১নং ওয়ার্ড বারইখালী গ্রামের নদী ভাঙ্গন। বিপাকে পরেছে নদীর তীরবর্তী মানুষেরা। বারইখালী ফেরিঘাট হয়ে পুরাতন থানা অভিমুখী নদীর তীরবর্তী প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তার এক প্রান্তে প্রায় ৪শ’ পরিবারের এখানে বসবাস।
গত ২ সপ্তাহ ধরে নতুন করে ভাঙ্গনের ফলে চলাচলের রাস্তা অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে বড় বড় ফাটল ধরে ভেঙ্গে পড়েছে নদী গর্ভে। অতিরিক্ত পানির চাপে ক্রমনেই রাস্তা ভেঙ্গ ছোট হয়ে আসছে। স্থানীয়রা বলছেন আর ২/৪ দিন এরকম পানির চাপ থাকলেই সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হবে গ্রামবাসী সহ পথচারীদের।
অভিযোগ রয়েছে পানি উন্নয়নবোর্ড কর্তৃপক্ষের তত্বাবাধনে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে ৬ মাস পূর্বে জিও ব্যাগ ফেরিঘাট হতে কিছু অংশ জায়গায় দু’দফায় দায়সারাভাবে জিও ব্যাগ ফেললেও তা এখন পানির চাপে ফাটল ধরে ভেঙ্গে গিয়ে নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে। নদীর সুরক্ষায় চলমান কাজটি হঠাৎ করে বন্ধ করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মালামাল নিয়ে চলে গিয়েছে অন্যত্র কাজটি শেষ হয়েছে কিনা বা কবে নাগাদ শেষ হবে এ সম্পর্কে স্থানীয়রা কিছুই জানে না।
নদীর তীরবর্তী ১নং ওয়ার্ড বারইখালী গ্রামের ভূক্তভোগী বাসিন্দা বেদার মুন্সী, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সোহেল রায়হান হাওলাদার, ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন হাওলাদার, লোকমান হোসেন কামাল হাওলাদারসহ একাধিক স্থানীয়রা ক্ষোভের সাথে বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি ভাঙ্গন জোয়ারের অতিরিক্ত পানিতে অভূক্ত থাকতে হয় এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের।
মনে হয়েছিল ভেরিবাধের কাজটি শুরু হয়েছে দু:খ লাঘব হবে। ৫/৬ মাস পূর্বে জোড়সরো জিও ব্যাগ ফেলানো কাজ চলছিল হঠাৎ করে শ্রমিক ঠিকাদার প্রতিষ্টান উধাও। কাজের বিষয়ে স্থানীয়দের কিছু বুঝতে দেয়নি। কি কাজ হচ্ছে কবে নাগাদ শেষ হবে সাটানো হয়নি সাইনবোর্ড।
নতুন করে গত ২ সপ্তাহ ধরে পানির চাপে ভেঙ্গে যাচ্ছে রাস্তা জিও ব্যাগ সাজানো স্থরর্ বড় বড় ফাটল ধরে চাং হয়ে নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে। সামনের জোগা আশা পূবেই রাস্তা সম্পূর্ন নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। জনগূরুত্বপূর্ন এ রাস্তাটি ভেঙ্গে গেলে বিপদের আর সীমা থাকবে না। পৌর প্রশাসক উপজেলা নির্বাহীর কর্মকর্তার নিকট জোর দাবী এখনই পদক্ষেপ গ্রহন করে সংস্কার পূর্বক রাস্তাটি বাঁধ দিয়ে সমস্যা সমাধানের জোর দাবী জানাচ্ছি।
এ সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পৌর প্রশাসক হাবিবুল্লাহ বলেন ফেরিঘাট সংলগ্ন নদীর তীরবর্তী নদী ভাঙ্গনের বিষয়ে ইতিমধ্যে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক জিও ব্যাগ সহ চলমান কাজ অব্যাহত রয়েছে। তবে কাজ বন্ধের বিষয়ে তিনি অবহিত নন। বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে সমাধান করা হবে।
মন্তব্য করুন