
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে নিবন্ধিত রোগীদের প্রায় ৫০ শতাংশের রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে, যা জাতীয় পর্যায়ের গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
এই সাফল্যকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলছে স্টেপস জরিপ (STEPS Survey)–এর তুলনামূলক চিত্র। স্টেপস জরিপ হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) প্রণীত একটি আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে পরিচালিত জাতীয় স্বাস্থ্য জরিপ, যেখানে দেশের অসংক্রামক রোগ যেমন উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়।
সাম্প্রতিক স্টেপস জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকা রোগীর হার এখনো তুলনামূলকভাবে কম। অর্থাৎ, দেশের বড় একটি অংশ নিয়মিত চিকিৎসা ও ফলোআপের বাইরে থেকে যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে মোংলার ৫০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একটি “উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি” হিসেবে দেখছেন।
মঙ্গলবার (২০ মে) মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাডভোকেসি সভায় এই সাফল্যের পেছনের কারণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
ডা. মো. শাহীন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ, রোগী ফলোআপ এবং কমিউনিটি ক্লিনিকভিত্তিক নিবিড় পর্যবেক্ষণের কারণে এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুধু স্থানীয় রোগীরাই নন, আশপাশের মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, রামপাল ও দাকোপ উপজেলার রোগীরাও চিকিৎসা নিতে আসেন। নিয়মিত ওষুধ সেবন ও ধারাবাহিক ফলোআপই রোগ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের খুলনা জোনের বিভাগীয় প্রোগ্রাম অফিসার আসলাম পারভেজ এবং সার্ভেইলেন্স মেডিকেল অফিসার ডা. আলী নূর হাসান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
তারা বলেন, কমিউনিটি পর্যায়ে নিয়মিত স্ক্রিনিং, সময়মতো ওষুধ সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ রোগ নিয়ন্ত্রণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
কর্মশালায় উপজেলার ১৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি, স্থানীয় প্রতিনিধি ও কমিউনিটি গ্রুপের সদস্যরা অংশ নেন। আলোচনায় রোগী নিবন্ধন বৃদ্ধি, নিয়মিত ফলোআপ, জীবনধারা পরিবর্তন এবং ওষুধ গ্রহণে অনিয়ম কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
একই দিনে অনুষ্ঠিত কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট সভায় চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট স্টাফরা সেবার মান আরও উন্নত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মোংলার এই অগ্রগতি শুধু স্থানীয় পর্যায়ের সাফল্য নয়। স্টেপস জরিপে উঠে আসা জাতীয় চিত্রের তুলনায় এটি কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবার একটি কার্যকর উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে। তাদের ধারণা, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে এই অভিজ্ঞতা দেশের অন্য উপজেলাগুলোতেও অনুসরণ করা।
মন্তব্য করুন