
বাগেরহাটের মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাতেন সড়ক এলাকায় কয়েক হাত জমির আইল-সীমানা ও পুকুরপাড়ের ঢাল কাটা নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধ এখন দুই প্রতিবেশী পরিবারের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা দেওয়া হয় ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জমি-সীমানা ও পুকুরপাড়ের ঢাল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। তবে নতুন করে ঢাল কাটা নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়।
শুক্রবার সরজমিনে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা প্রকাশ্যে কথা বলতে সতর্ক থাকলেও অনেকে বলছেন, বিষয়টি একদিনে তৈরি হয়নি, দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন থেকেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মোংলা থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল হালিম দাবি করেছেন, ১৩ মে দুপুরে তিনি ও তাঁর ভাই পুকুরপাড়ে গাছের ডাল কাটার সময় প্রতিবেশী কয়েকজন নারীসহ কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে বাধা দেন। পরে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাদের বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ঘরের ওয়ারড্রবে থাকা ৬৫ হাজার টাকা এবং একজোড়া স্বর্ণের কানের দুল খোয়া গেছে। পাশাপাশি ভয়ভীতি ও হুমকির অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্র বলছে, তারা অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে আহতদের সঠিক সংখ্যা ও বিস্তারিত পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিরোধের সূত্রপাত মূলত জমির আইল-সীমানা ও পুকুরপাড়ের ঢাল কাটা নিয়ে। প্রথমে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য থাকলেও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর খোরশেদ আলম বলেন, “পুকুরপাড়ের ঢাল কাটা নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, এটি মূলত একটি তুচ্ছ বিষয় ছিল। স্থানীয়ভাবে আলোচনা করলেই সমাধান করা যেত। কিন্তু কিছু পক্ষ বিষয়টিকে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে এবং উত্তেজনা বাড়ে।”
মোংলা থানার তদন্ত কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র গাইন জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন