
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে একটি কৃষক দিনমজুর পরিবার ৬০ বছর ধরে ভিটে মাটিতে বসবাস। হঠাৎ জমি ক্রয়ের নামে অসহায় এ পরিবারটিকে উচ্ছেদের জন্য মরিয়া প্রভাবশালী একটি মহল। অসুস্থ পিতা মানসিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ মাতা ও শারিরীক প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে এখন কোথায় যাবে দূশ্চিন্তায় এ পরিবারটি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্থানীয় ৭০ জন গ্রামবাসীর গনস্বাক্ষরের দাবী অসহায় এ পরিবারটি ভিটে মাটিতে পরিবারপরিজন নিয়ে বসবাস করেতে পারে তার ব্যবস্থ করার।
ভূক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বারইখালী ইউনিয়নের তেঁতুল বাড়িয়া গ্রামের গ্রামে বসবাস বৃদ্ধ মনোরঞ্জন বিশ্বাস (৭৫)। দীর্ঘ ৬০ বছর পূর্ব থেকে ভান্ডারিয়া উপজেলার ভিটাবাড়ীয়া গ্রামের রবিন্দ্র ঢালীর জমিজমা পরবাসী হিসাবে চাষাবাদ করে সেখানেই ২৪ শতক জমিতে বসবাস ছেলে মেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে। এখন বাধ্যক্ষতা ও অসুস্থতার কারনে আর জমিতে চাষাবাদ করতে পারছে না।
এক মাত্র ছেলে রিপন বিশ্বাস দিন মজুর খেটে কোন মতে সংসার চালায়। কোন বেলা খাবার জোটে আবার কাজ না পেলে কোন কোন দিন অভূক্ত থাকতে হয়। কুড়ে ঘরে মানসিক প্রতিবন্ধী স্ত্রী উষা রানী (৬০), নাতী শারিরীক প্রতিবন্ধী স্কুল পড়ুয়া দেবাশিষ বিশ্বাস পুত্রবধু সহ ৫ জনের এ পরিবারটি।
বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা কেয়ার বাংলাদেশ নবপল্লব প্রকল্পের মাধ্যমে একটি পাকা ঘর, বাথরুম ও পানির ট্যাংকি সহায়তা হিসাবে পেলেও প্রাপ্ত ঘরটি তুলতে এখন বাধা সৃষ্টি করছে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল।
সম্প্রতি এ মহলটি ১৮ শতক জমি ক্রয়ের নামে দিনমজুর মনরঞ্জন বিশ্বাসের পরিবারকে ভিটে মাটি থেকে উচ্ছেদের জন্য একের পর এক হয়রানী মরিহা হয়ে উঠেছে। ছেলের স্ত্রী দিপালী বিশ্বাসের নামে এনজিওদের প্রাপ্ত ঘর তুলতে বাধা সৃষ্টি করছেন।
প্রাপ্ত সুবিধাভোগী এ পরিবারটি ঘর পাওয়ার আশায় পূর্বের ঘর সরিয়ে পলিথিন টানিয়ে সেখানে অসুস্থ স্ত্রী নাতী নাতনী নিয়ে কোন মতে বসবাস করছেন। বসত ঘরের পোতা ৩/৪ মাস ধরে ফাকা পরে রয়েছে। প্রতিনিয়ত ঝর বৃষ্টিতে মানবতার জীবন যাপন এ পরিবারটির। এ ঘটনায় ৭০ জন স্থানীয় গ্রামবাসী গন স্বাক্ষরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দপ্তরে একটি লিখিত আবেদন করেছেন অসহায় এ পরিবারটি যাতে তার প্রাপ্ত ঘরটি ভিটে মাটিতে তুলে সেখানে বসবাস করতে পারেন।
বৃদ্ধ মনোরঞ্জন বিশ্বাসের ছেলে রিপন বিশ্বাস বলেন, জন্ম থেকেই বাবার এ ভিটে মাটিতে বড় হয়েছি। ভান্ডারিয়ার রবীন্দ্র ঢালীর জমি জমা দেকভাল ও চাষাবাদ করার জন্য পরবাসী আমার পিতা ৬০ বছর ধরে এখানে বসবাস।
এ জমি আমাদের নামে রেজিষ্ট্রিী দেওয়ার কথা বলে কিছু টাকাও নিয়েছেন। হঠাৎ রবীন্দ্র ঢালীর মৃত্যুর পরে আমাদের উচ্ছেদের জন্য এলাকার একটি মহল উঠে পরে লেগেছে। এনজিও থেকে ঘর পেয়েছি সে ঘরটিও এখন তুলতে দিচ্ছে না। থানায় একটি অভিযোগ ও করেছি। আমরা উদ্ধর্তন প্রশাসনের কাছে ন্যায় বিচার চাই। অসুস্থ বৃদ্ধ পিতা মাতা, স্ত্রী প্রতিবন্ধী ছেলে মেয়েকে নিয়ে এখন কোথায় যাবো। আমাদের গরিবের মাথা গোজার ঠাইটুকু এখন কেড়ে নিতে চায় প্রভাবশালীরা।
এ সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাবিবুল্লাহ বলেন, তেঁতুলবাড়িয়া জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে একটি পরিবারকে উচ্ছেদের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাই নি। তবে অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
মন্তব্য করুন