
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার হোগলাপাশা ও বনগ্রাম ইউনিয়নে টানা ভারী বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে বোরো ধান চাষে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছেন শত শত বর্গাচাষি। প্রায় ১০টি গ্রামের অন্তত দেড়শ’ বিঘা জমির ধান পঁচন ও গজ হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, ছোট হরিপুর, বড় হরিপুর, হোগলাপাশা, গোবিন্দপুর, কালিয়া মেঘা, বনগ্রাম, জয়পুর, দাশখালী, শ্রীপুর ও মধ্য জয়পুর গ্রামের প্রায় দুই হাজার বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছিল। কিন্তু গত এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং কাটা ও হেলে পড়া ধান দ্রুত পঁচতে শুরু করে।
অনেক মাঠে ফসলে গজ ও পাতো হয়ে পড়ায় ধান কাটার আর সুযোগ থাকছে না কৃষকের। অতিরিক্ত টাকা দিয়েও মিলছে না শ্রমিক। ভিজে যাওয়া ধানের নেই কোন চাহিদা। মারাই করে অর্ধেক ফসল ও ঘরে তুলছে পারছে না এ চাষীরা। আবার চিঠে হয়ে গেছে অধিকাংশ ধান। বিঘা প্রতি বর্গা চাষীরা১১/১২ হাজার নগদ টাকায় জমি রেখে সার কীটনাশক শ্রমিক সহ ৪০ হাজার টাকা ব্যায় করে আসল টাকা ঘরে তুলতে পারবে না। পাওনাদারদের টাকা দিবে কিভাবে।
কৃষকের চোখের জলে এখন মাঠের পর মাঠ পঁচন ধরা ফসল। ক্ষতিগ্রস্থ চাষী মধ্য জয়পুর গ্রামের বিজয় কৃষ্ণ মিস্ত্রী ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যায় করে ৪ বিঘা ফসল চাষাবাদ করেছে। একটুকরো ফসল ঘরে নিতে পারছে না। সারের দোকানের পাওনাদাররা টাকার তাগেদা দিচ্ছেন।
এরকম বাবুল কৃষ্ণ মাঝি ৩ বিঘা জমি আড়ই বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে, ছোট হরিপুর গ্রামের রতন কুমার দাসের দেড় বিঘা চাষ করছে দেড় বিঘারই ফসল পানির নিচে পঁচন ধরে নষ্ট হয়ে গেছে, কালিয়া মেঘা রুস্তুম আলী শেখ ৫০ হাজার টাকা ব্যায় করে আড়াই বিঘা ফসল চাষাবাদ করেছেন, গত বছর বিঘায় পেয়েছেন ১০০ মন এবারে বিঘায় ২৫/৩০ মন, ১০ কাটা জমির ধান এখনো পানির নিচে।
ছোট হরিপুর গ্রামের কালিপদ সাহা এক বিঘা ফসলে গজ হয়ে গেছে এখনো পানির নিচে ফসল, কর্তনের নেই কোন সুযোগ। শিশির সাহা ২ বিঘা জমির ১৫ কাটা পানির নিচে ধান পঁচন ধরেছে। দূর্গা রানী দাস ৩ বিঘার ফসলের দেড় বিঘা ধানই গজ ও পাতো হয়ে বিনষ্ট হয়ে গেছে।
শিব চরন ধার ৩ বিঘা ধান নষ্ট। হোগলা পাশা গ্রামের আঃ মালেক মোল্লার ৮ বিঘা ফসলের ২ বিঘা নষ্ট হয়ে গেছে। একই গ্রামের খালেক কাঁ ১০ বিঘার ৩ বিঘাই নষ্ট হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ এসব চাষীদের চোখে মুখে দূশ্চিন্তার চাফ। তারা বলেন না পারি কইতে না পারি সইতে। দেনার দায়ে পালিয়ে গিয়েও রক্ষা পাওয়া যাবে না। সন্তান স্ত্রী ও পরিবারের কথাও চিন্তা করি।
এমনিতেই ফসল মাঠে থাকতেই পাতা ঝলসানো রোগ, কারেন্ট পোকার আক্রমন তারপরেও আবার মরার ওপর ক্ষরার ঘা। প্রাকৃতিক বৈরী আবহাওয়া প্রবল বর্ষনে বেঁচে থাকার শেষ সম্বল টুকু আর থাকল না। ক্ষতিগ্রস্থ এসব চাষীরা সরকারীভাবে সহায়তা প্রদানের দাবী জানিয়েছেন সরকারে প্রতি।
হোগলাপাশা ইউনিয়ন উপ সনকারী কৃষি কর্মকর্তা লায়েক হাওলাদার বলেন, তার ইউনিয়নের ৭৭০ হেক্টর বোরো আবাদ করেছে চাষীরা। সম্প্রতি কয়েক দিনের ভারী বর্ষনের ফলে অনেক ধান পঁচন ও গজ জমিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে যে সব চাষী, প্রাথমিক পর্যায়ে ৫ হেক্টর ফসলি মাঠের ক্ষতিগ্রস্থ তালিকা করা হয়েছে। এখনো জরিপ চলছে। তালিকা আরোও বাড়তে পারে।
এ সম্পর্কে উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন টানা ভারী বর্ষনে বোরো ফসলের ক্ষতির বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে তালিকা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সম্পূর্ন তালিকা করে উপজেলা পর্যায়ে প্রেরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন