
অবশেষে দীর্ঘ ৫১ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর সংলগ্ন মোংলা পোর্ট পৌরসভা পেতে যাচ্ছে নিজস্ব প্রশাসনিক ভবন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ভাড়া বাড়িতে কার্যক্রম চালানো এই পৌরসভার নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচল পৌরবাসীর।
শুক্রবার বিকেলে মোংলা শহরের পুরাতন ‘রিমঝিম সিনেমা হল’ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই আধুনিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. শেখ ফরিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।
পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনতলা বিশিষ্ট এই আধুনিক ভবনটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সৌকত এন্টারপ্রাইজকে আগামী ১৮ মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমি, মোংলা-রামপাল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম এবং মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম হাবিবুল্লাহ, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র মো. জুলফিকার আলী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আ. মান্নান হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম হাবিবুল্লাহ বলেন, “নিজস্ব ভবন না থাকায় এতদিন প্রশাসনিক কাজ পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। সব সেবা এক ছাদের নিচে আনা সম্ভব ছিল না। নতুন ভবনটি নির্মিত হলে নাগরিক সেবার মান ও গতি—উভয়ই বাড়বে।”
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মোংলা পোর্ট পৌরসভার কোনো স্থায়ী কার্যালয় ছিল না। বিভিন্ন সময়ে অস্থায়ী এবং ভাড়া করা ভবনে দাপ্তরিক কাজ চলায় সেবাগ্রহীতাদের প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়তে হতো। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরীর পৌরসভা হিসেবে নিজস্ব ভবন হওয়া ছিল সময়ের দাবি। এই উদ্যোগের ফলে মোংলার প্রশাসনিক অবকাঠামোয় নতুন মাত্রা যোগ হবে।
মন্তব্য করুন