
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে চিংড়াখালী ইউনিয়নে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ন ভবনে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ভবন ধসের আশঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অবিভাবকরা। সংশ্লিষ্ট উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট স্থানীয়দের দাবী বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মান করে শিক্ষার গুনাগত মান উন্নয়নে পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।
সোমববার সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার চিংড়াখালী ইউনিয়নের ৪৬নং গাজী মেমোরিয়াল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৫৯ সালে স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৫-১৯৯৬ অর্থ বছরে সরকারী বরাদ্দে অফিস কক্ষ সহ ৪ কক্ষ বিশিষ্ট বিদ্যালয় ভবনটি নির্মান করে পরিচালিত হয়ে আসছে শিক্ষা কার্যক্রম সহ ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান। এ বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সখ্যা রয়েছে ৭১ জন শিক্ষক মন্ডলী ৫ টি পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন ৪জন শিক্ষক। প্রধান শিক্ষকের পদটি ২০২০ সাল থেকে শূন্য রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন জাকারিয়া হাওলাদার। সময় দুপুর সারে বারোটা বিদ্যালয়ের জরাজীর্ন শ্রেনী কক্ষে পাঠদান দিচ্ছেন শিক্ষকরা। ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান চলাকালীন শিক্ষার্থীদের চোখে মুখে ভয়ের আতঙ্কের ছাফ। শ্রেনীকক্ষের বিভিন্ন স্থান থেকে ফলেস্তরা খসে পড়ছে। গোটা ভবনের বারান্দার পিলার গুলো ভেঙে পড়ে বেরিয়ে এসেছে রড। তারপর ও দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এ ঝুঁকিপূর্ন ভবনে শিক্ষকরা দিচ্ছেন পাঠদান।
৫ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী আমেনা আক্তার, নাদিয়া আক্তার, রুম্মান শিকদার সহ একাধিক শিক্ষার্থীদের সংবাদকর্মীদের কাছে একই প্রশ্ন কবে হবে আমাদের বিদ্যালয়ের নতুন ভবন। ক্লাসে ভয়ে পাঠদান করতে হয় কখন যানি ছাদের ফলেস্তরা খসে মাথায় পড়ে। অবিভাবকরা আমাদের স্কুলে পাঠিয়ে প্রতি নিয়ত দূর্চিন্তায় থাকেন। আমাদের স্কুলে আমরা একটি নতুন ভবন চাই।
স্থানীয় অবিভাবক মোকলেছুর রহমান, নাজিম উদ্দিন, সাবেক ইউপি সদস্য শাহিন শিকদার বলেন, এ স্কুলটি দীর্ঘ বছরের পুরাতন স্কুল ছাত্র-ছাত্রী ও অনেক। প্রতি বছর ভালো রেজাল্ট করলেও বিদ্যারয়ের জরাজীর্ন ভবনের কারনে সম্প্রতি অনেক ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে চাচ্ছেন না অবিভাবকরা। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী বিদ্যালয়ে একটি নতুন ভবন নির্মানের জোর দাবী জানাই।
৪৬নং গাজী মেমোরিয়াল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাকারিয়া হাওলাদার বলেন, বিদ্যালয়ের জরাজীর্ন ভবনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিকট ইতিমধ্যে একাধিকবার লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে কোন ব্যবস্থা হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক অবিভাবকরা তাদের ছেলে মেয়েদের স্কুলে নিয়মিত পাঠাচ্ছেন না। যে কারনে মাঝেমধ্যে উপস্তিতি কম হয়। শিক্ষকরাও পাঠদান চলাকালীন সময় ক্লাসে ফলেস্তরা খসে পড়েছে কিছুদিন পূর্বে । এ বিষয়েও সংশ্লিষ্ট ক্লাষ্টার সহকারী শিক্ষা অফিসারকে জানানো হয়েছে। বিদ্যালয়টিতে একটি নতুন ভবন হলে পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসবে শিক্ষার্থীরা।
এ সম্পর্কে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার খন্দকার মোঃ শেফাইনূর আরেফীন বলেন, এ উপজেলার ৩০৯ টি বিদ্যারয়ের মধ্যে একেবারে জরাজীর্ন অবস্থায় ২৫ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ইতি মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বিকল্প ব্যবস্থায় স্থানীয়দের সহযোগীতা নিয়ে অস্থায়ী ভিত্তিতে ঘর তুলে সেখানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান প্রদানের। নতুন ভবনের চাহিদা তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে এ কর্মকর্তা জানান।
মন্তব্য করুন