
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে একটি জন-গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতুর রেলিং রাতের আধারে ভেঙে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। ফলে এখন স্কুল শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচল হুমকির মুখে পড়েছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছেন গ্রামবাসী।
রবিবার সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের রামচন্দ্রপুর গ্রামের বিষখালী খালের সংযোগ সেতুটির শনিবার দিবাগত রাতে এক প্রান্তের রেলিং ভেঙে রড কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। জন-গুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটি ২০০৫ সালে এলজিইডি দপ্তরের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়।
এই সেতু পার হয়ে প্রতিদিন রামচন্দ্রপুর, বর্ষিবাওয়া, কচুবুনিয়া, কামলা ও পোরেরহাটসহ পাঁচ গ্রামের ৩-৪ হাজার মানুষ চলাচল করে। এমনকি উপজেলা শহরে যেতে হলেও স্থানীয়দের এই সেতু পার হতে হয়। শত শত যাত্রীবাহী মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও ভ্যানগাড়ি চলাচল করে এ সেতু দিয়ে।
সেতুর পাশে অবস্থিত ৩৫নং এন কে রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই সেতু পার হয়ে বিদ্যালয়ে যায়।
এছাড়াও রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদ, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজী বাড়ি মাদ্রাসা, চারটি মসজিদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় যাতায়াতের জন্য মানুষ এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল।
সংশ্লিষ্ট ১নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ আব্দুল খালেক শেখ, কৃষক শহিদুল ইসলাম, জালাল উদ্দিন শেখসহ একাধিক পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গতকাল সকালেও সেতুর দুই পাশের রেলিং অক্ষত ছিল। যদিও পূর্বে এক পাশে কিছুটা ভাঙা ছিল, এখন দেখা যাচ্ছে পুরো রেলিংই রাতের আঁধারে ভেঙে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
তারা আরও বলেন, ছোট ছোট শিশুরা এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পার হয়ে কীভাবে বিদ্যালয়ে যাবে, তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে এখনও ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে।
স্থানীয়দের মধ্যে কেউ কেউ ধারণা করছেন, ধান কাটার একটি মেশিন রাত সাড়ে দশটার দিকে সেতু পার হওয়ার সময় আটকে পড়ায় রেলিং ভেঙে যেতে পারে। অন্যদিকে অনেকে বলছেন, একটি চক্র মাদকের অর্থ জোগাড় করতে রড কেটে নিয়ে বিক্রি করেছে।
স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির পাশাপাশি দ্রুত সেতুটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলমগীর শেখ বলেন, এর আগে এক মাস পূর্বে একটি চক্র তার ওয়ার্ডের একটি কালভার্ট ভেকু মেশিন দিয়ে ভেঙে ইট নিয়ে যায়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবার সেতুর রেলিং ভেঙে নেওয়ার ঘটনা ঘটল। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।
৩৫নং এন কে রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেবী রানী দেবনাথ বলেন, তার বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই সেতু পার হয়ে স্কুলে আসে। এক প্রান্তের রেলিং ভেঙে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। দ্রুত সেতুটি মেরামতের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, রামচন্দ্রপুরের সেতুর রেলিং ভাঙার বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে জেনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন